খাদিজা আক্তার সেতু
কোষাধ্যক্ষ
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নারীরা আজ এগিয়ে যাচ্ছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভেতরে চলমান নির্যাতন, অবদমন, বর্বরতা-নির্মমতা নারীকে পুরোপুরি দমিয়ে রাখতে পারেনি। নারীরা জেগে উঠেছে তাদের মতোই, আপন শক্তিতে। অবদমন প্রক্রিয়ার মধ্য থেকেও বাংলাদেশে নারীদের সাফল্য এখন আকাশছোঁয়া! কারণ বিশ্বে এই মুহূর্তে আমরাই সবচেয়ে বেশি নারীর ক্ষমতায়নে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি! আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সফল নারী, যিনি একাধারে একজন সফল সরকারপ্রধান এবং সফল মা! সফল নেতৃত্বের সব গুণ অর্জন করে আজ তিনি বিশ্বনেতাদের কাতারে। বিরোধী দলের নেতা নারী, আমাদের স্পিকার নারী, সংসদ উপনেতা নারী। আমাদের মন্ত্রিসভায় আছেন অনেক নারী মন্ত্রী, যা অন্যান্য দেশের জন্য এখনো অকল্পনীয়! শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে এখন সচিব পদে নারী, জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে নারী, বিচারপতির আসনে নারী, জজ-ব্যারিস্টার হিসেবে নারীরা জায়গা করে নিচ্ছেন। সামরিক বাহিনীতে নারীদের সাফল্য দেখার মতো, পুলিশ সদস্য হিসেবে নারীদের সাফল্য অনেক বেশি। কেননা শোনা যায়, নারী পুলিশ সদস্যরা পুরুষ পুলিশ সদস্যের তুলনায় অনেক সত্ হয়। গণমাধ্যম, শিক্ষকতা, এনজিওতে নারীর সাফল্য ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় সর্বোচ্চ ভালো ফলগুলোও আজ মেয়েদের মুঠোয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে আমাদের লাখো নারী গার্মেন্টস কর্মী! বাংলাদেশের মেয়েরা আজ চষে বেড়াচ্ছে হিমালয়ের চূড়া; পাইলট হয়ে পৃথিবীর আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে দুর্দান্ত প্রতাপের সঙ্গে! শিলা-সীমান্তরাই বাংলাদেশের পতাকা বিদেশের মাটিতে উড়িয়ে দেয় সগৌরবে। বাংলাদেশের নারীরা এভাবে এগিয়ে যাক দুর্বার গতিতে। বিশ্ব জানুক আমাদের আকাশ ছোঁয়ার গল্প।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের আকাশ ছোঁয়ার গল্প শুনতে অনেকেরই ভালো লাগবে না। কিন্তু আমাদের শুনতে ও শোনাতে হবে। কাজটা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই। যেসব মা আজঅবধি ঘরের কাজ করেই জীবন পার করে দিলেন; যেসব বাবা ভাবেন:‘আমার মেয়েও যদি এমনভাবে বিশ্বজয় করতো, তাদের আজ শপথ নেওয়ার দিন। বাবারা, যারা এতদিন মেয়েকে দমিয়ে রেখেছেন, আজ সময় এসেছে মেয়েকে এগিয়ে নেওয়ার। আর নীচুতা, ভীরুতা, অবদমন নয়। নিজের মেয়েকে আকাশ ছোঁয়ার গল্প বলার সময় এসেছে। স্বপ্ন দেখাতে হবে তাদের। তৈরি হতে হবে নতুন এই বাংলাদেশের জন্য, বিশ্বজয়ের জন্য। কেননা, সময় এসেছে। মেয়েদের হাতেই আসছে বাংলাদেশের বিজয় পতাকা এবং নারী নেতৃত্ব এগিয়ে যাক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
