মুহিউদ্দিন নুর
বিগত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নিয়েছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। দিনটিকে ঘিরে তারা আয়োজন করে চোখ ধাঁধানো সব স্থাপত্য প্রদর্শনীর। এবার এই প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয় ‘স্থাপত্যে অনুরণন’। এই উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে পহেলা বৈশাখের অনেকদিন আগে থেকেই শুরু হয় তাদের কার্যক্রম। দিনের আলো ফুরিয়ে যাওয়ার পর আঁধার ঘনিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দ্বিতীয়তলায় লাইট জ্বলতে দেখলে বোঝা যেতো ভবিষ্যত্ স্থপতিরা এখনো তাদের প্রদর্শনীর কাজ নিয়ে ব্যস্ত। হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগটি একদিকে যেমন তরুণ তেমনি তাদের পরিবারটিও খুব বেশি বড় নয়, তবে এক হয়ে কাজ করা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে কোনো কমতি নেই তাদের মাঝে। এতোসব পরিশ্রমের পর পহেলা বৈশাখের দিন উদ্বোধন শেষে প্রদর্শনীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের সহ বাইরের দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। টিএসসির দ্বিতীয়তলায় প্রবেশ করেই বিশাল জায়গা জুড়ে দেখা গেল অসাধারণ সব কারুকাজ। যেন শিল্পীর হাতের নিখুঁত সব কাজের প্রদর্শনী।
কান্তজিউ মন্দিরের মডেল, ফ্রাগমেনটেশন, টেকটাইল চেকচার, স্কাল্পচার, হাইরাইজ, আরবান প্রোজেক্ট, ফটোগ্রাাফি, স্ট্রিং আর্ট, নতুনদের কাজ, নগর পরিকল্পনা, চিত্রকল্প, ফটোবুথ, ইনফর্মেটিভ দেয়ালসহ বিভিন্ন সৃষ্টিশীল স্থাপত্য যে কোনো দর্শনার্থীর নজর কাড়তে বাধ্য। এর মধ্যে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লোহার ছোট ছোট তারকাঁটা ও কালো সুতা দিয়ে তৈরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি। এর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি ওঠানোর লাইন সবসময় লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছিল উক্ত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে ছবিপ্রেমীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও ছিল সেখানে। প্রদর্শনীর ভেতরেই একটি অংশ সাজানো হয়েছিল জ্যোত্স্না রাতের অবয়বে। সেখানে দেখা মিলবে কৃত্রিম চাঁদ, মেঘযুক্ত আকাশ ও গাছপালার। অন্যদের তুলনায় ক্যাম্পাসের প্রেমিক যুগলদের আনা-গোনা এখানে একটু বেশিই ছিল। প্রদর্শনীতে অসংখ্য মডেলের প্রতিটিই যেন ছিল নিজস্ব মহিমায় মহিমান্বিত। এই প্রদর্শনী শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই নজর কাড়েনি, দিনাজপুর শহর থেকে ঘুরতে আসা অনেক দর্শনার্থীর দেখাও মিলেছিল এখানে। এখানে স্থান পাওয়া পরিকল্পিত দিনাজপুর শহরের রূপরেখা মুগ্ধ করেছিল স্থানীয় দর্শনার্থীদের।
