বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

দার্জিলিং ভ্রমণ থেকে শেখা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:১৮

  আবুল বাশার মিরাজ

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সাংবাদিক সমিতির ১১ জন সদস্য দার্জিলিং-এর উদ্দেশ্যে রওনা হই। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমাদের বাস ময়মনসিংহ থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা করে। এরপর ইমিগ্রেশন শেষ করে আমরা প্রথমে শিলিগুড়ি পৌঁছালাম। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য জীপে চেপে বসলাম দুপুর ৩টায়। কিছুদূর সমতল ভূমি যাওয়ার পর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে লাগলো। পাহাড়ের গা ঘেঁষে সবুজের হাতছানি অনেকদূর কুয়াশাচ্ছন্ন টং-এর মতো বাড়ি। সে এক অপরূপ দৃশ্য। নিচের দিকে তাকালে গা শিহরণ দেয়। কোথায় কোনো গভীর খাদ! আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের মধ্যে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি সাথে নিয়ে দার্জিলিং শহরে পৌঁছালাম।

আমাদের ভ্রমণসূচি নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ হলো। বললেন আগামীকাল ভোর ৪টার দিকে আমাদের বের হতে হবে। উদ্দেশ্য টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখা। এটি দার্জিলিং অঞ্চলের উঁচু স্থান (৮৪৮২ ফুট) এবং শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাহাড়ের নিচ থেকে উদীয়মান টকটকে লাল সূর্যের প্রথম রশ্মি পড়ে কাঞ্চনজংঘায়। আর টাইগার হিল হলো সেই বিরলতম স্থান, যেখান থেকে এভারেস্ট ও কাঞ্চনজংঘা একসঙ্গে দেখা যায়। এরপর আসলাম বাতাসিয়া লুপ নামে একটি পার্কে। বাতাসিয়া লুপ এবং রেল স্টেশন এখন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ।

আমরা ‘রক গার্ডেন’ দেখতে বের হলাম। এটি দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট নিচে। সে একই কথা আঁকাবাঁকা পথে পাহাড় ডিঙিয়ে জীপগাড়ি আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে শুরু করলো। রক গার্ডেন যাওয়ার পথে দার্জিলিং-এর বিখ্যাত চা বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম অরেঞ্জ ভ্যালি চা বাগান পাড়ি দিতে হয়। চা বাগানের কোল ঘেঁষে আঁকাবাঁকা রাস্তার দু’পাশ জুড়ে ঘন সবুজের গালিচা, তার সাথে দেখতে পাওয়া মেঘ আর পাহাড়ের মিতালী চোখ জুড়িয়ে গেলো।