চিকিৎসকের মারধরের শিকার প্রসূতির মা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩০
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে করেছেন প্রসূতির সঙ্গে থাকা তার মা নাসিমা বেগম (৫৫)। রবিবার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
 
ভুক্তভোগী নাসিমা বেগম মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গাজিরঘাট গ্রামের মো. ইদ্রিস শেখের স্ত্রী। এ ঘটনার পর ওই ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করানো হয়েছে বলে জানান বাগেরহাটের সিভিল সার্জন। 
 
মারধরের শিকার নাসিমা বেগম বলেন, ‘আজ সকালে আমার মেয়ে রোজিনা বেগমের প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে আমরা বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। পরে সকালে গাইনি ওয়ার্ডের জুনিয়র কনসালটেন্ড ডা. আবুল কালাম আজাদ আসেন। এসময় রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। আমার মেয়ে তীব্র প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিল। তাকে আমি বেডে জোর করে ধরে রাখি। এসময় ডাক্তার আমাকে দেখে জোরে আমার পিঠে আঘাত করে। তখন আমি রোগীর মা বললে মুখে সজোরে চড় মারে।’
 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামের কাকলি বেগম বলেন, ‘মেয়েটি প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছিল। তার মা তাকে ধরে রাখে। ডাক্তার এসেই তাকে মারপিট হরে। একজন ডাক্তারের এমন ব্যবহার আগে কখনও দেখিনি।’
 
পাশের বেড়ে থাকা প্রসূতি অপরাজিতা রায় জানান, ডাক্তারের মারপিট ও ব্যবহারে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। এমন আচরণ একজন ডাক্তারের হতে পারে না। 
 
এবিষয়ে কথা বলার জন্য ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি তার মোবাইল রিসিভ করেননি।
 
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুণ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। একজন ডাক্তারের এমন আচরণ হওয়া কারো কাম্য নয়। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ