তারুণ্যের উন্নয়নে তাজদীন হাসান

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২৪

>> বেনজির আবরার

 

তাজদীন হাসান। ২০১৯ সালে আইভিএলপি ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটার্স লিডারশিপ প্রোগ্রামে করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। এই আয়োজনটি ইউএসএ স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিমিয়াম একটা প্রফেশনাল এক্সচেইঞ্জ প্রোগ্রাম। ২০১৯ সালে সিভিক অ্যান্ড ইয়ুথ অ্যাঙ্গেজমেন্ট, মানে সমাজের বিভিন্ন মানুষ ও তরুণদের নিয়ে কাজ করার যে ক্যাটাগরি সেখানে সিলেক্ট হয়েছেন তাজদীন।

২০০০ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তাজদীন। এরপর ২০০২ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ১০ম স্থান লাভ করেন। পরে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিবিএতে গ্র্যাজুয়েশন এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইবিএ থেকে এমবিএ শেষ করেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোতে শুরু করেন নিজের কর্পোরেট ক্যারিয়ার। ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো ছাড়াও কাজ করেছেন শেভরন, ডিএইচএল ও রবির মতো প্রতিষ্ঠানে।

তবে কর্পোরেট থেকে মিডিয়াতে আসায় তাজদীন সুযোগ পেয়েছেন সৃজনশীলতা ও কাজ করার স্বাধীনতা উপভোগ করার।

তিনি জানান, আইভিএলপি মানে হলো ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটার্স লিডারশিপ প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামটা ইউএসএ স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিমিয়াম একটা প্রফেশনাল এক্সচেইঞ্জ প্রোগ্রাম। এ আয়োজনের আমাকে মনোনীত করেছে মার্কিন দূতাবাস। প্রোগ্রামটি ডিজাইন করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেবে তাদের জন্য।

তার ভাষায়, ‘আমি যদি প্রোগ্রামটা সম্পর্কে খুব সহজ ও সংক্ষেপে বলি,  আমরা প্রোগ্রামটা শুরু করি মার্চের ৯ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে। সেখানে আমরা ২৩টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা একত্র হই এবং আমাদেরকে ফেডারেল গভর্নমেন্টের কাজগুলো এবং ইন্টারন্যাশনাল যেসব বডি আছে, তারা কিভাবে কাজ করছে ইয়ুথ ও সিভিলদের নিয়ে সেসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। আমাদের একটা সিটি ট্যুর দেওয়া হয়। এছাড়াও আমরা একটা ওয়ার্কশপ করি গ্র্যাজুয়েট স্কুল ইউএসএতে। আমি মনে করি, বাংলাদেশেও এধরনের একটা প্রোগ্রাম করার সুযোগ আছে। আমরা সবাই নজর দিই যারা গ্র্যাজুয়েশন করছে, তাদের দিকে। কিন্তু অনেক বড় একটা অংশ গ্র্যাজুয়েশন করতে পারছে না, ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারছে না। এছাড়া পড়াশোনা করার পরেও জব ফিল্ডে ফিট হচ্ছে না, তাদের জন্য আমরা এধরনের ডিপ্লোমা চিন্তা করতে পারি। শুধু পড়াশোনা নয়, ভলান্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমেও আমরা তাদের মধ্যে লিডারশিপ তৈরি করতে পারি।’

আগামী দিনের পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি ইয়ুথ এবং সিভিল অ্যাঙ্গেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছি, এছাড়া ডেইলি স্টারে গত কয়েকবছর ধরে আমরা যুব দক্ষতা উন্নয়ন, যুবদের বিভিন্ন সমস্যা, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে এই প্রোগ্রাম করার পর আমার এখন যে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা থাকবে, তা হলো এ কাজের গতি ও পরিধি বাড়ানো।

ফিউচার স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা প্রজেক্ট সাবমিট করব। তরুণদের জন্য সুন্দর একটা বসবাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য যা যা প্রয়োজন এবং তা আরো মাত্রায় বাড়ানো যায় কি না তা নিয়ে কাজ করাই হলো আমার ভবিষ্যত্ লক্ষ্য।’