জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিহত হয়েছে রবিউল ইসলাম ওরফে আপেল (২৬) নামে এক যুবক। নিহত আপেল দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের চন্দ্রাপাড়া চিকাজানী এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত হোসেন টুনু শেখের ছেলে। তিনি একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। সোমবার সকালে থানা সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে পুলিশ মাদক বিরোধী চেকপোস্ট বসিয়ে আপেলের ইজিবাইক থামার সংকেত দেয়। এ সময় দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ পেছন থেকে 'চোর চোর' বলে তাকে ধাওয়া করে। পরে দেওয়ানগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে ব্রহ্মপুত্র নদে আপেল লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ হয়। রাতেই স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে খোঁজ করে। তখন তাকে পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে প্রেরণ করে।
IMG0
এদিকে এ ঘটনার নির্যাতন ও নদীতে ফেলে দিয়ে পুলিশের বিরোদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের স্বজনসহ বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা মিছিল নিয়ে সোমবার সকালে থানা ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করে।
নিহতের স্ত্রী সোহাগীর অভিযোগ, পুলিশ বিভিন্ন সময়ে তার স্বামীকে আসামি ধরে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। ধরে না দিলে ইয়াবা বড়ি দিয়ে আটক করে মেরে ফেলার হুমকি দিত।
এ বিষয়ে নিহতের শোকার্ত মা রাহেলা বেগমের অভিযোগ, তার ছেলে রবিউল কোনো দোষ করেনি। ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাতো। তাকে পুলিশ নির্যাতন করে নদীতে ফেলে দেয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: লুৎফর রহমান বলেন, নিহতের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলাসহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা রাতে মাদকবিরোধী চেকপোস্টে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রবিউল ইজিবাইক রেখে দেওয়ানগঞ্জ বাজারের দিকে দৌড়ে পালায়। স্থানীয় লোকজন তাকে চোর ভেবে ধাওয়া দেয়। পরে জানতে পারি ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দিয়েছে সে। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। লাশটি জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশি নির্যাতনে মারা যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পালিয়ে গেলেও ইজিবাইক রেখে যাওয়ার কারণে পুলিশ তাকে ধাওয়া করেনি কিংবা নির্যাতন করেনি।
ইত্তেফাক/নূহু
