‘খুশি করার মতো ভালো খেলা খেলব’

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫০

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বঙ্গমাতা (অনূর্ধ্ব—১৯) আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম খেলায় আরব আমিরাতকে হারানোর পরও আমাদের খেলায় দেশবাসী যদি খুশি না হয়ে থাকেন তাহলে খুশি হওয়ার মতো খেলাই খেলবেন মৌসুমীরা। জাতীয় মহিলা ফুটবল অধিনায়ক মৌসুমী কাল দুপুর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা ভালো খেলা উপহার দিয়ে দেশবাসীর মন জয় করব।’

আরব আমিরাতকে আগেও হারিয়েছে মৌসুমীরা। এবার সেই আমিরাত বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টে এসে হুংকার দিয়েছিল। অন্য দলগুলো যেখানে বলছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ ফেভারিট। সেখানে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার একদিন আগে আরব আমিরাতের হুংকার তারা নিজেরাই এই টুর্নামেন্টে ফেভারিট। এমন কথার একদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ ২-০ গোলে আরব আমিরাতকে হারিয়ে প্রমাণ করেছে কারা ফেভারিট। সঠিক জবাব দেওয়ার পরও বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল পারফরম্যান্স অনেকের চোখে প্রশংসিত হয়নি। কার পেছনের তিনবারের মুখোমুখি তে আরব আমিরাতকে বাংলাদেশ হারিয়ে ছিল ৬-০, ৪-০ এবং ৭-০ গোলে। তিন ম্যাচে ১৭ গোল করেছিল। এতো বড় ব্যবধানের পর ২-০ গোলে জয়টা নিয়ে সন্তুষ্ট না। আরো ব্যবধান হতে পারত। অধিনায়ক মৌসুমী মানতে রাজী না তাদের সামর্থ্য এই এতোটুকু। তাহলে কেন বাংলাদেশের মেয়েরা আরব আমিরাতের খেলায় ৭৫ ভাগ বল পজেশন, ১৬টি কর্নার, হাফ ডজন সেটপিস পেয়েও বাংলাদেশ আরব আমিরাতের গোল মুখে আগুন ঝরাতে পারেনি। অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের মেয়েরা কঠোর অনুশীলন করছে। টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট খেলছে। হয়ত ক্লান্তি শরীরে জমাট বেঁধে আছে। সংবাদ মাধ্যমের জমিয়ে রাখা নানা প্রশ্নে উত্তর খুঁজতে ক্যাম্পে বিশ্রামে থাকা অধিনায়ক মৌসুমীকে নামিয়ে আনা হলো। চোখে রাজ্যের ঘুম। বাফুফের টার্ফে তখন কাঠফাটা রোদ। সংবাদ মাধ্যম কথা বলল। জানতে চাইলো আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়টা আরো আনন্দমুখর হতে পারত কিনা। মৌসুমী কিছুতেই সংবাদিকদের প্রশ্নের ফাঁদে পা দেননি। বার বার ঘুরে ফিরে একই কথা বলে এসেছেন আমাদের ফিনিশিংয়ের লাইনটায় ত্রুটি ছিল। আমরা ভালো খেলেছি। স্বার্থপরের মতো খেলিনি। আমাদের চোখে সেরাটাই খেলেছি। আমাদের সব মেয়েরা তাদের সামর্থ্যানুযায়ী ভালো খেলেছে। আগামীতে দেশবাসীকে খুশি করার মতো আরো ভালো খেলবো।’

ঘরের মাঠে লড়াই হচ্ছে এটা কোনো চাপে ফেলছে কিনা তা নিয়েও কথা উঠছে। মৌসুমী বললেন, ‘আমাদের ঘরের মাঠে খেলা। চেনা পরিবেশ। আমাদের দর্শক। এখানে আমরা কেন চাপে থাকব।’ এই কথাটা বলেই যোগ করলেন মৌসুমী-এবারই প্রথম বঙ্গমাতার নামে এ ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য প্রেরণা। এখানে চাপে থাকার কি আছে।’

মৌসুমী চলে গেলে স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেন। আরব আমিরাতের বিপক্ষে গোল করেছেন তিনি। সবার গোল কার প্রবণতার কারণে বাংলাদেশ দলের আক্রমণ নষ্ট হয়েছে। স্বপ্না জানিয়ে গেলেন আমাদের দুর্বলতা ছিল আমরা গোল মিস করেছি, সেটা যেন না হয়।’