স্পোর্টস রিপোর্টার
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অবস্থা নাজেহাল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে উপমহাদেশীয় কন্ডিশনেই হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে। এমনকি এ সিরিজের আগেও অবস্থাটা সুখকর ছিল না দলটির। তবে, বিশ্বকাপের আগে অতীত নিয়ে ভেবে দুশ্চিন্তা বাড়াতে চাচ্ছে না ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলটি।
বিশ্বকাপের আগে প্রথম দল হিসেবে ইংল্যান্ড গেছে পাকিস্তান। অবশ্য বিশ্বকাপের আগেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হবে দলটি। আগামী পাঁচ মে দুই দল একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। এরপর আট মে থেকে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
দেশ ছাড়ার আগে লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সদর দপ্তরে বসে দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই যে, আমরা বেশ শক্তভাবেই বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি। আশা করি ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে। অতীতে যা হয়ে গেছে, তা আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের সাত-আটজন খেলোয়াড় বিশ্রামে ছিলেন। হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা আগে কিছু ভুল করেছি, এবার আশা করি তার পুনরাবৃত্তি হবে না।’
যদিও, সরফরাজ এরপর নিজেই অতীত টানলেন। বললেন, ‘আমরা আগেও বিশ্বকাপ জয় করেছি। এবারো জিততে পারি। ২০০৬ (অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ), ২০০৯ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ), ১৯৯২ (বিশ্বকাপ) সালে জিতেছি আমরা। এমনকি আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি। তাই, এবারো আমরা জিততে পারি।’
বিশ্বকাপের আগেই ইংলিশ কন্ডিশনে ১১টি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। এর মধ্যে ৯টি ওয়ানডে ম্যাচ আছে। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। ৩১ মে ট্রেন্ট ব্রিজে পাকিস্তানের প্রথম প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এরই মধ্যে নিজেদের দল ঘোষণা করে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ দলে নেই বাঁ-হাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। ১৫ জনের দলে তার পাশাপাশি জায়গা পাননি আরেক বাঁ-হাতি পেসার উসমান শিনওয়ারি ও হার্ড হিটার আসিফ আলিও।
আমিরের আশা অবশ্য এখনো শেষ হয়ে যায়নি। দল ঘোষণার জন্য ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ২৩ এপ্রিল। দলগুলো চাইলে সেই সময়ের মধ্যে দলে পরিবর্তন আনতে পারবে, সেটাও আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির কোনো অনুমতি ছাড়াই।
তবে, সমস্যা একটাই— আমিরের ফর্ম। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে যে ১০১টি ওভার তিনি ওয়ানডেতে করেছেন এর মধ্যে পেয়েছেন মোটে পাঁচটা উইকেট। বোলিং গড় ৯২.৬০। এই পরিসংখ্যানটা মোটেও আমিরের সঙ্গে যায় না। অথচ, এই আমিরের পারফরম্যান্সে ভর করেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান।
সরফরাজ মনে করেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে আমিরকে আবারো তার সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমির একটা সুযোগ পাচ্ছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। ও অনেক পরিশ্রম করছে। ট্রেনিং ক্যাম্পে ভালো করেছে। আমাদের শেষ অনুশীলন ম্যাচটাতেও ওর বোলিং ছিল ইতিবাচক। ইংল্যান্ডে ওকে তাই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ওর নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আমাদের পেসারদের মধ্যে একটা দারুণ প্রতিযোগিতা চলছে। আমরা ছয়জন ফাস্ট বোলারকে সঙ্গে নিয়েছি। সবাইকেই আমরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগাতে পারব।’
