গোদাগাড়ীতে পদ্মার ভাঙ্গনে ২ হাজার ঘরবাড়ি ভাঙ্গনের মুখে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:০৫
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির স্রোতে ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে। এক সপ্তাহে ছয়টি গ্রামের ৫০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর পাড়ের বসবাসকারীরা আতংকিত হয়ে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সরকারী সাহায্য পৌঁছেনি। স্থানীয় লোকজন জানায়, নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর বয়ারমারী, আমিন পাড়া, ঢেঙ্গা পাড়া, নিছু বয়ারমারী, আদর্শপাড়া, লুটারী পাড়াসহ দশটি গ্রাম নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
 
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ রানা উজ্জ্বল বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।এতে করে চর বয়ারমারী আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫ টি বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে। গ্রামটির আরো ১৫টি বাড়ি বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে।
 
নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। নদীর তীর থেকে ৫০০ গজ দূরে রয়েছে চর-বয়ারমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র (ফ্লাট সেন্টার)। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিব বলেন, ভাঙ্গন অব্যহত থাকলে অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হবে বিদ্যালয়ের ভবন ও ফ্লাড সেন্টার। জরুরী ভিত্তিতে নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারী সাহায্য চেয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
 
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, নদীর পাড়ে বসবাসকারী লোকজন দারিদ্র হওয়ায় অধিককাংশই অর্থের অভাবে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে পারছে না। গত এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর কয়েকশত বিঘা ফসলী জমি, মৃল্যবান গাছসহ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় এসব মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আরো ২ হাজার বাড়িঘর, সড়ক, স্কুলসহ মৃল্যবান স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। 
 
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ আরো বলেন, নদী ভাঙ্গনের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। ভাঙ্গনের বিস্তারিত তথ্য উপজেলা প্রসাশনকে অবহিত করা হয়েছে।
 
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আকতার বলেন, নদী ভাঙ্গনের সঠিক তথ্য লিখিত আকারে পাওয়ার পর জেলা প্রসাশকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নদী ভাঙ্গন ও বন্যার আশংকার কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ফোনে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু