দাদন চক্রে বন্দি জেলেরা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:৩১
অভয়াশ্রম তৈরিসহ নানা উদ্যোগে দেশে বেড়েছে ইলিশের উত্পাদন। ইলিশ ছাড়াও অন্যান্য দেশীয় মাছ যেমন, পাঙ্গাস, পোয়া, রুই, কাতলা, গলদা চিংড়িসহ অন্যন্য ছোট মাছের উত্পাদন বেড়েছে। এর পরেও দাদনদারদের কবল থেকে বের হতে পারছে না দেশের জেলোর। ৮৪ ভাগ জেলে জানিয়েছে তারা দাদনদাদের কাছে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হন। মাত্র ৯ ভাগ জেলে স্থানীয় বাজারে সরাসরি মাছ বিক্রি করতে পারেন। মাছ বিক্রিতে জেলেদের দরকষাকষি বা পছন্দের কোন সুযোাগ নেই।
 
‘জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও গবেষণা’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এর প্রভাব মূল্যায়নে করা জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জরিপটি করেছে। প্রকল্পটি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত ৭ বছর মেয়াদে ৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণাঞ্চলসহ ১২টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে জেলেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুফলের বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদে দেশের ইলিশের উত্পাদন বেড়েছে প্রায় ৯৬ হাজার মেট্রিক টন বা প্রায় ৩২ ভাগ। সাড়ে ৩২ হাজার জেলে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় এসেছে। প্রকল্পে সুবিধাভোগী জেলেদের মাসিক আয় প্রায় ৪৩ ভাগ বেড়েছে।
 
জানা যায়, দেশে প্রায় ৫ লাখ লোক ইলিশ আহরণের সাথে সরাসরি জড়িত। প্রকল্পের মাধ্যমে অভয়াশ্রম তৈরির ফলে ইলিশের বংশবৃদ্ধি পেয়েছে, উত্পাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবছর নভেম্বর হতে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা আইনত নিষিদ্ধ। মৌসুম ভিত্তিক জুলাই-অক্টোবর সময়কালে ইলিশ আহরণের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।
 
জরিপকালে দেখা গেছে, ৮০ ভাগ জেলে বছরে ৬ থেকে ৭ মাস, ১১ ভাগ জেলে ৩ থেকে ৪ মাস মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকে। জেলেদের মাসিক গড় আয় সাড়ে ১২ হাজার টাকার মতো। মাসিক সঞ্চয় মাত্র ৫শ টাকার কিছু বেশি। বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জেলেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তাদের বড় অংশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। মূল্য প্রাপ্তিতে মাত্র ২০ ভাগ জেলে ভালো মূল্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
 
প্রকল্পটি চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ফেনী, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাটের মোট ৫১টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এই অঞ্চলের সুফলভোগী জেলেদের কাছ থেকে নমুনার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলেদের অবস্থার উন্নতির জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে আছে বিনাসুদে ঋণ প্রাদান, মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে ভিজিএফ এর চাল ও অনুদান বৃদ্ধি ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রয়োজনে স্বল্প মেয়াদী ঋণের জন্য বিভিন্ন এনজিওর উপর নির্ভরশীল জেলেরা। জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ এর আওতায় চাল বিতরণ বন্ধ করা হলে তারা জীবিকার প্রয়োজনে জাটকা আহরণে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।  জাটকা সংরক্ষণের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার পাশাপাশি প্রজননকালীন সময়ে নদীতে ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালু তোলা বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি