তিন ধাপে কেনা হবে দেড় লাখ ইভিএম

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:২৭
তিন ধাপে দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসাবে চলতি অর্থ বছরে ৫০ হাজার মেশিন কেনা হতে পারে। প্রতি ইউনিট ইভিএমের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতিটি ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটের সঙ্গে দুটি করে ব্যালট ইউনিট কেনার প্রস্তাব রয়েছে। সোমবার ইভিএম কেনার প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্বিবেচনা করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে জানান, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিটের সঙ্গে একটি ব্যালট ইউনিটের প্রয়োজন হবে। আর উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে একটি কন্ট্রোল ইউনিটের সঙ্গে তিনটি ব্যালট ইউনিটের প্রয়োজন হবে। কেননা এসব নির্বাচনে একইসঙ্গে চেয়ারম্যান বা মেয়র পদ ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণের বিধান রয়েছে। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ প্রকল্পটি উঠতে পারে।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, ইভিএম কেনার প্রকল্প পাসের জন্য একনেক বৈঠকে উঠবে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে ইভিএম কীভাবে কেনা হবে। আমরা আংশিক নাকি সব ইভিএম কিনতে পারব তা ওই বৈঠক থেকে বোঝা যাবে।
 
এদিকে, ইসি থেকে পাঠানো ডিপিপিতে এই মেশিনের ওয়ারেন্টি পরে নির্ধারণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত ইভিএম কেনা সংক্রান্ত প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছিল, এ মেশিনের ওয়ারেন্টি ১০ বছর পাওয়া যাবে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তেও ১০ বছর ওয়ারেন্টির বিষয়টি ডিপিপিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
 
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন দেড় লাখ ইভিএম ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কিনতে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ৫০ হাজার করে তিন ধাপে কেনা হবে এসব ইভিএম। ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ২০১০ সালের ১৭ জুন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার শুরু করেন তত্কালীন ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। কারিগরি ক্রটির কারণে গত কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন এ মেশিন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সিইসি নূরুল হুদার কমিশন পুনরায় নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। এসব মেশিনের গুণগত ও কারিগরি দিক উন্নয়ন করা হয়। এলক্ষ্যে সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এ ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি সংযোজন করে সংশোধনীর প্রস্তাবনা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 
 
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুততার সঙ্গে এ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ইসি। ১১ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগে এ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মুহাম্মদ দিলোয়ার বখেতর সভাপতিত্বে সভায় ৯টি শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি