কয়েক বছরের ব্যবধানে তিন সহোদরের মৃত্যু
শাখাওয়াত হোসেন শামীম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
আর্সেনিক ঝুঁকিতে ধুঁকছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলাবাসী। ২০১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই উপজেলায় সাড়ে ৫ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। শাহরাস্তিতে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, ২০১২ সালের পর গত সাত বছরে সরকারিভাবে কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। অদূর ভবিষ্যতে আরো বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ২১ বছর আগে দেশের সর্বোচ্চ আর্সেনিক কবল অঞ্চল হিসেবে এ উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারপর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যথোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আর্সেনিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অন্যতম ৭নং ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ির মমতাজউদ্দিনের পরিবার। এই পরিবারে ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাইয়েরই মৃত্যু হয়েছে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে। ঐ পরিবারের বড়ভাই রুহুল আমিন মানিকের আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রথম জানা যায় ২০০৪ সালে। তিন বছর পর ২০০৭ সালে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মানিকের। তৃতীয় ভাই মো. মজিবুর রহমানও (৪৮) আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২০১৭ সালে। আর সর্বশেষ ২০১৮ সালে মৃত্যু হয় দ্বিতীয় ভাই নুরুল আমিনের (৫৫)। তাদের চতুর্থ ভাই মফিজুর রহমানও (৪৫) আর্সেনিকে আক্রান্ত। এছাড়া রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের শাহেদা বেগম ও তার স্বামী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. অচিন্ত্য চক্রবর্ত্তী জানান, ২০১২ সালের পর থেকে সরকারিভাবে কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। আমরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছি। তারা বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছে। ২০১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৫৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর ২০১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো ১৪ জন রোগী শনাক্ত হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস সিসিটি অতিরিক্ত দায়িত্ব আ. হালিম জানান, ১৯৯৬ সালে প্রথম আর্সেনিক শনাক্ত হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত শাহরাস্তি উপজেলায় ১ হাজার ৭৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সচল রয়েছে ১ হাজার ৭৪৫টি। চলতি অর্থবছরে আরো ৬৫টি গভীর নলকূপ বসানোর টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন।
