নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) নামে খুলনার কয়েকজন স্থপতির কাছে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে গণহারে এ চাঁদা দাবি করা হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে দুজন স্থপতি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নগরীর মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১৬ নম্বর রোডের বাসিন্দা স্থপতি একেএম ফয়জুল আলম রনি জানান, বুধবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর (০১৮২৫৩৯১৪০০) থেকে জনযুদ্ধের নেতা বিপুল পরিচয় দিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার মতো আরও ৫ জন স্থপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। চাঁদা দাবির ঘটনায় রনি নগরীর খালিশপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। স্থপতি একেএম ফয়জুল আলম রনি নগরীর কেডিএ নিউমার্কেট এলাকায় লিভিং সিস্টেম কনসাল্টেন্ট নামের একটি আর্কিটেক্ট ফার্মের পরিচালক।
এদিকে, ঘটনার কিছুক্ষণ পর আরেকজন প্রকৌশলী হাসান শাহরিয়ার খান নিলয়ের কাছেও একই নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে নগরীর বয়রায় আর্কিটেক্ট ফার্ম বসতভিটার কর্ণধার স্থপতি আল-মাসুম বিল্লার ফোনে একই নম্বর দিয়ে কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি জরুরি মিটিংয়ে থাকায় তার ব্যক্তিগত নাম্বার রিসিভ করতে পারেননি।
একইভাবে নন্দন বিল্ডার্সের স্থপতি জাহিদুর রহমান জিসানের কাছেও চাঁদা দাবি করে চক্রটি। একই সময় জোয়ার্দ্দার হাফিজ নামে আরও একজন স্থপতির কাছে একই নম্বর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবুর লোক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়, এক্ষেত্রেও চাঁদা না দিলে হত্যা ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়।
এ সংক্রান্ত জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কে বা কারা এ কাজ করেছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
