একটি বাতি, পাখা আর একটি টেলিভিশন চালিয়ে মাস শেষে বিল এসেছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬ টাকা। এমন ভুতুড়ে বিল পেয়ে বিপদে পড়েছে ভারতের এক দরিদ্র পরিবার।
ঘটনা ভারতের পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার কদমবাধি গ্রামে। হতদরিদ্র ওই পরিবারের প্রধান বাবলু। কোনমতে রোজগার করে অভাবে সংসার চলে বাবলুর।
ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে বাবলু বলেন, প্রতিমাসে ৩০০-৫০০ টাকা বিল আসে। এ টাকা জমা দিতেই হিমশিম খেয়ে যেতাম। কোন মাসে বিল শোধই করতে পারতাম না।
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে মাত্র একটা বাতি চলতো তবুও সেটা খুবই কম। পাখাও একটা চলতো। আর টেলিভিশন তো চলতোই না তেমন। কাজ না করলে পেটে খাবার জুটতো না টিভি দেখার সময় কই।
অভাবের কারনে গত তিন মাসে বিল দিতে যাইনি বিদ্যুৎ অফিসে। হঠাৎ করে সেপ্টেম্বর মাসে এসে বিল দেয় বিদ্যুৎকর্মী। সেখানে জুন, জুলাই ও আগস্ট মিলে তিন মাসের মোট বিল আসে দুই লাখ ৯৪ হাজার টাকা, জানান তিনি।
এমন বিল দেখে চিন্তায় পড়ে যান বাবলু। দিশেহারা হয়ে যান। একবার আত্মহত্যাও করতে চেষ্টা করেন।
বাবলু অভিযোগ করে বলেন, এমন ঘটনায় অনেকবার বিদ্যুৎ অফিসে যাই, কিন্তু গিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো বিদ্যুৎকর্মীরা এসে তার ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে গেছে।
এ সমস্যার সমাধান করতে লাখ টাকা ঘুষ চান আমলাগড়া বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আমলাগড়া বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি তারা এড়িয়ে গেছেন।
ইত্তেফাক/ এসআর
