ফুটবলার মৌসুমীর স্বপ্নের পথে হাঁটার গল্প

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২২

এক সময় মেয়েটিকে পরিবারের বোঝা ভাবা হতো। তাকে নিয়ে কী করবেন শঙ্কায় ছিলেন বাবা আব্দুল কাদের, মা মোহসীনা বেগম। সেই পরিবারের সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এখন মৌসুমী। ফুটবল মৌসুমীকে বদলে দিয়েছে।

পুরো নাম মিসরাত জাহান মৌসুমী। মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক মৌসুমীর নেতৃত্বে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলে খেলছে বাংলাদেশ। অনেক কষ্টের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ এতোটা এগিয়েছেন। পড়াশোনা, খেলাধুলা সবকিছু সাবলীলভাবে সামলাচ্ছেন জাতীয় দলের এই মিডফিন্ডার।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকায় ঢুকলে চোখে পড়ে বিশাল ব্যানারে মৌসুমীর ছবি। দর্শকরাও থমকে দাঁড়িয়ে দেখেন অদম্য মৌসুমীকে। যার নেতৃত্বে দেশের জাতীয় ফুটবল দল এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে লড়াই করছে। প্রথম খেলায় আরব আমিরাতের মত শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে।

রংপুরের পালিচড়ায় এক নম্বর সদ্য পুস্করনি ইউনিয়নের রামজীবন মধ্যপাড়া গ্রামে মৌসুমীদের বাড়ি হলেও তারা সবাই বর্তমানে সভারের নবীনগরে বসবাস করছেন। খেজুরটেক বাজারে গিয়ে ‘খেলার মৌসুমীদের’ বাসায় যাবো বললেই যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেন স্থানীয়রা। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন তিনি। 

চার বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে মৌসুমী চার নম্বরে। বোনদের মধ্যে তৃতীয়। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী। কাজ করেন নবীনগরে খেজুরটেক বাজারে। যে মেয়েটিকে মা ফুটবল খেলতে দেয়নি এখন সেই মেয়েটি সংসার আলোকিত করে রেখেছে। এক সময়ের অভাবী সংসারে এখন টিভি, ফ্রিজ, সাইকেল, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার মেশিন- কি নেই ঘরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্য খেলোয়াড়দের মতো মৌসুমীকেও ১০ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে করেছেন ৯ গোল। ফুটবল খেলতে এসে মৌসুমী চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড- কোথায় না গেছেন। রাখঢাক না করে মৌসুমী বললেন, আমার চৌদ্দগুষ্ঠিও এতো দেশ ঘোরেনি। তিনি বলেন, মা খেলতে দিত না। স্কুলের হারুন স্যার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাইন বিল্লাহ স্যার আমাকে খেলায় আনার সহযোগিতা করেছেন। এখন আমি বাসায় দায়িত্ব নিয়েছি। বাবা—মা আমাকে ছেলে সন্তানের মতো দেখে।

মৌসুমীর মা জানালেন, বিয়ের প্রস্তাব আসছে; কিন্তু আমার মেয়ে বিয়ে করতে রাজি না। সে খেলতে চায়। মেয়ে বলে আম্মা আমার অনেক স্বপ্ন আছে আমাকে একটু খেলতে দাও। আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট করে। ফুটবল ক্যাম্পে অনুশীলনের স্বার্থে খাওয়া-দাওয়ায় কঠোর নিয়ম। খুব কমই ভাত খেতে দেওয়া হয়। অথচ মৌসুমীর পছন্দ বিরিয়ানী। মৌসুমীর স্বপ্ন, বঙ্গমাতা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ট্রফি উপহার দিবেন।