এটুআই এবং আইএলও-এর যৌথ আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় এ্যাপ্রেনটিসশিপ সম্মেলন। শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের হোয়াইট অর্কিড হোটেলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রতিনিধি, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নেন।
দুই দিনব্যাপী (২১-২২ সেপ্টেম্বর) এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল- মূলত এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের এক অঞ্চলের ভাল দিকগুলো অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়া, চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করা, কারখানার মালিকদের এ্যাপ্রেনটিসশিপ এ উদ্বুদ্ধ করা এবং এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামকে টেকশই করা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন- জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) এর মহাপরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক মো. শহিদুজ্জামান, সমাজসেবা অধিদপ্তর এর পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মোহাম্মদ ইউসুফ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এর পরিচালক (পিআইইউ) মো. অহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম্যান ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। উক্ত সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন এটুআই প্রোগ্রাম এর প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
এ সম্মেলনে মূলত এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম এ উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা দূরীভূতকরণ ও টেকসইকরণ নির্ধারন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সারা দেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ বা এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের সম্প্রসারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এছাড়াও সম্মেলনে ইনফরমাল ও ফরমাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের অভিজ্ঞতা ও কেস স্টাডিও শেয়ার করা হয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূইয়া বলেন, ‘এ্যাপ্রেনটিসশিপ ধারণাটি বাংলাদেশে নতুন হলেও এর প্রায়োগিক দিকটি সারাদেশে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে এটুআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সঠিক আইন মেনে সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করলে তা আরও বেশি সফলতার মুখ দেখবে’।
সভা প্রধানের বক্তব্যে এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দক্ষজনশক্তি তৈরি এবং বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে তাদের যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানে যুক্ত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম সফলভাবে পরিচালনা করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়নকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একযোগে কাজ করতে হবে’।
সম্মেলনে এ্যাপ্রেনটিসশিপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্লোবাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ নেটওয়ার্ক’ এর ১২ তম নেটওয়ার্ক হিসেবে গ্লোবাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ নেটওয়ার্ক-বাংলাদেশ এর উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, এটুআই এর উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে এ্যাপ্রেনটিসশীপ প্রোগ্রাম চালু করা হয়।এটুআই বর্তমানে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের আওতায় ৩শ ৫০ টি শিল্প-কারখানায় এগ্রো-ফুড, ফার্নিচার, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি, কন্সট্রাকশন, লেদার ও ফুটওয়্যারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে বিভিন্ন চাহিদাভিত্তিক ট্রেডে ১৫ হাজার বেকার যুবক-যুবমহিলাকে এ্যাপ্রেনটিস হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে, যা ২০১৮ এর শেষ নাগাদ ৩০ হাজারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইনফরমাল সেক্টরে ১৩০টির ও বেশি উপজেলায় ১২ হাজারের ওবেশি এ্যাপ্রেনটিস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মে নিযুক্ত হয়েছেন।এ ছাড়াও সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম এর ম্যানেজমেন্ট, মনিটরিং ও মেন্টরিং এর লক্ষ্যে এটুআই ন্যাশনাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করেছে যা, এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের সকল স্টেক হোল্ডারকে সেবা প্রদানের একক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এ্যাপ্রেনটিসশীপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রশিক্ষিত যুব/ কর্মীরা বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিযুক্ত হয়। এর ফলে শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষ লোক পায় ফলে সবার জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ ও মাথাপিছু রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পায়।
সম্মেলনে এটুআই- এর পলিসি স্পেশালিস্ট আসাদ-উজ-জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআই
