ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জোবায়ের আর জাবেদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসেছে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নাম। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর টেলিফোনে রুহুলকে সবকিছু জানায় জাবেদ। তবে রিমান্ডে রুহুল নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেননি। সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হবে আজ বুধবার। গতকাল মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ডের চতুর্থ দিন ছিল। খুব একটা মুখ খোলেননি তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, গতকাল পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি দল রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পৌর আওয়ামী লীগের গ্রেফতারকৃত মকছুদ আলমকে দলের শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও গ্রেফতারকৃত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে দল থেকে এখনো বহিষ্কার এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার বিরুদ্ধে দলের হাইকমান্ড এখনো কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় নেতারা জানান, রুহুল আমিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাবস্থায় তার নিয়ন্ত্রণে ২০-২৫ জন ক্যাডার তার নির্দেশে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যেত। ক্যাডার বাহিনীদের মধ্যে তার চাচাতো ভাই যুবদল নেতা গোলাপ ওরফে মিঞা সাব, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়াধন, থানা যুবদলের খোরশেদ আলম ভূঞা তার দেহরক্ষী হিসেবে সবসময় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকত। এ ছাড়াও, ইয়াবা ব্যবসায়ী দুলাল ওরফে বাটা দুলাল, সিরাজ ওরফে সিরাজ ডাকাত, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝি রুহুল আমিনের নির্দেশে এলাকায় চাঁদাবাজি, ইয়াবা ব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ হত্যা, রাহাজানির মতো কর্মকান্ড চালিয়ে যেত। সম্প্রতি নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায়ও এ সকল সন্ত্রাসীরা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এদের গ্রেফতার করলে হত্যার ঘটনাসহ রুহুলের অনেক কর্মকাণ্ড উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, রুহুল আমিনরা তিন ভাই। এক ভাই আবুল কাশেম। তিনি পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। আরেক ভাই সুফিয়ান যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তিনিও সেখানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ নেতা হলেও স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সাথে সখ্য রয়েছে তার। ফৌজদারি অপরাধ করেও অনেক বিএনপি নেতাকে প্রভাব খাটিয়ে মামলা থেকে রক্ষা করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত রায় ঘোষণা করলে সোনাগাজীতে মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপি। পুলিশ এতে বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও মিছিলে নেতৃত্বদানকারী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়নি। শুধুমাত্র রুহুল আমিনের কারণে।
এদিকে, ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নিহত রাফিদের বাড়িতে যান এবং শোকাহত মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেন এবং রাফির কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে সংসদ সদস্য এলাকার লোকজনদের উদ্দেশে বলেন, রাফি হত্যার ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন সে যত বড় ক্ষমতাধর হোক না কেন অবশ্যই বিচারের আওতায় তাকে আসতে হবে এবং তার বিচার করা হবে। তিনি রাফি হত্যার ঘটনায় ফেনী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানান।
