সালথায় দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ, ভিডিও প্রচার

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৫

ইত্তেফাক ডেস্ক

ব্যাপক প্রতিবাদ, সামাজিক আন্দোলন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নানারকম প্রচেষ্টার পরেও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের রাশ টানা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ-যৌন হয়রানির মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। ফরিদপুরের সালথায় ধর্ষণের পর তা ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচারের মতো নোংরা কাজও করেছে দুই ধর্ষক বন্ধু। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা: ফরিদপুরের সালথায় দুই বন্ধু মিলে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শাকিল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক আসামি শাকিলের বন্ধু জাবের পলাতক রয়েছে।

অভিযুক্ত শাকিল উপজেলার যুগীকান্দা লক্ষণদিয়া গ্রামের মাসুদ ফকিরের ছেলে এবং জাবের একই গ্রামের বজলু মাতুব্বরের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাতের বেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে মেয়েটি বাইরে গেলে প্রতিবেশী শাকিল ও জাবের তার মুখ চেপে ধরে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। সম্প্রতি ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সোমবার মেয়েটির ভাই সালথা থানায় মামলা করেন। এদিন বিকালে শাকিল গ্রেফতার হয়।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ভাই বলেন, শাকিল ও জাবের আমার বোনের শ্লীলতাহানি করে ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়। এলাকায় বিচার না পেয়ে থানায় মামলা করেছি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন লক্ষনদিয়া গ্রামের পল্লি চিকিত্সক শাহ আলম এর ছেলে সজীব-এর ফেসবুক আইডিতে এ ভিডিওটি ছাড়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, ?‘ঘটনার মূল হোতা শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামি জাবেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক কলেজছাত্রীর পর এবার ধর্ষিত হয়েছে প্রতিবন্ধী এক শিশু। সিংগাইরের মধ্যধল্যা গ্রামের রফিজ উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে এক সন্তানের জনক আল-আমিন  দেওয়ান (২৫) প্রতিবন্ধী ওই শিশুকে (১৩) ধর্ষণ করে। রবিবার সকালের এই ঘটনায়  সোমবার সিংগাইর থানায় মামলা হয়। এরপর গতকাল দুপুরে ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।  সিংগাইর থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন ধর্ষণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, এখনো ধর্ষককে গ্রেফতার করা যায়নি।

এদিকে ধর্ষিতার মা অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে মাসখানেক আগে ওই ধর্ষকের পিতা রফিজ উদ্দিন দেওয়ানও ধর্ষণ করে। তখন লোকলজ্জার ভয়ে তারা বিষয়টি চেপে যান।

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: বগুড়ার গাবতলী উপজেলার জয়ভোগা মধ্যপাড়া গ্রামের ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ধর্ষক উজ্জ্বল মিয়াকে (৩০) তার বাড়ি থেকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে গাবতলী থানা পুলিশ। উজ্জ্বল নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের জয়ভোগা মধ্যপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। ধর্ষিত শিশুটির পিতা বাদী হয়ে গাবতলী থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার থানা পুলিশ উজ্জ্বলকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। একই দিন তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণ হয়ে গেল ‘ধর্ষণ চেষ্টা’

বরিশাল অফিস: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার একতা বাজারের ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের বিচারের দাবিতে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রী তার পিতাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। অভিযুক্ত ধর্ষক সজিব গাজী একই উপজেলার চর মেমানিয়া গ্রামের নূরুল হক গাজীর ছেলে। মাদ্রাসা ছাত্রী লিখিত বক্তব্যে বলে, বখাটে সজিব তাকে মাদ্রাসায় যাবার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় অভিভাবকদের অনুপস্থিতির সুযোগ পেয়ে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। চিত্কার দিলে স্থানীয়রা ছুটে এলে সে পালিয়ে যায়। ১৩ এপ্রিল হিজলা থানায় মামলা দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ নিজ কম্পিউটারে এজাহার লিখিয়ে তাতে স্বাক্ষর নেয়। এসময় ধর্ষণের অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে  মামলার কাগজে দেখা যায় ‘ধর্ষণ চেষ্টা’ লেখা হয়েছে। এ ব্যাপারে হিজলা থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, মেয়েটি যেভাবে অভিযোগ করেছে সেভাবে মামলা নেওয়া হয়েছে।