সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি শতকরা ৩৭ ভাগ কমে গেছে। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পণ্যের শুল্ক অব্যাহতি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আহরণ কমে গেছে। এতে করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিমাসে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস আমদানি পণ্যের শুল্কায়নের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে পণ্যের আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারে। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-২০১৯) জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসের পণ্য আমদানির সঙ্গে পূর্বের একই সময়ে আমদানি পণ্যের পরিমাণ যাচাই করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
শুধুমাত্র গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে যে পরিমাণ গাড়ি আমদানি হয়েছিল চলতি অর্থবছরে একই সময়ে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে যেখানে একই সময়ে আট হাজার গাড়ি আমদানি হয়েছিল এবার ৩ হাজার ৬৪৭টি কম আমদানি হয়েছে। এতে করে প্রায় ৩৭৭ কোটি টাকা কম শুল্ক পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস দিয়ে গত বছরের তুলনায় এবার চিনির ক্ষেত্রে শুল্ক আদায় কম হয়েছে ৩২৭ কোটি টাকা। এমএস পাইপ ওয়েলডেড আমদানি কমেছে প্রায় ৩০০ টন। যার ফলে রাজস্ব কমেছে ১০২ কোটি টাকা। ট্রান্সমিশন মডেম আমদানি কমেছে ৬০১ টন। এতে করে ৮ মাসে রাজস্ব কমেছে ২৪১ কোটি টাকা। লেড এসিড আমদানি কমেছে ৫ হাজার ৩০৫ টন। ফলে রাজস্ব কমেছে ৮৬ কোটি টাকা। ট্রান্সফরমার আমদানি কমায় রাজস্ব আদায় কমেছে ৬৫ কোটি টাকা। সেলুলার টেলিফোন সেট আমদানি কমেছে ৬৮৫ টন। এতে রাজস্ব কমেছে ৫৪ কোটি টাকা। অপরিশোধিত লবণ আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টন। এর জন্য রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ওয়েল কেক আমদানি কমেছে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টন। এ বাবদ রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। ফিনিশড সিরামিক টাইলস গত অর্থবছরের ৮ মাসের তুলনায় কম আমদানি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন। যার প্রেক্ষিতে রাজস্ব কম পাওয়া গেছে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে চাল আমদানি ৮ মাসে কমেছে প্রায় ১০ লক্ষ টন। যার ফলে রাজস্ব কমেছে প্রায় ১১৮ কোটি টাকা।
