ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার হালনাগাদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। আগামী ১৩ মে পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। এ সময় আঠারো বছরের কম বয়সী (২০০৩/৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম তাদের) নাগরিকদেরও তথ্য নেওয়া হবে। এতে প্রথম ধাপে ১৩৫ উপজেলায় তথ্য নেওয়া হবে। এবার হালনাগাদে প্রায় ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কমিশন। এদিকে টাকার লোভে হালনাগাদে কোনোভাবেই যেন জীবিত ভোটারের নাম মৃত হিসেবে না দেখানো হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকাসহ ১৬ দফা নির্দেশনা মাঠ কর্মকর্তাদের দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সকল জেলা/সিনিয়র জেলা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
হালনাগাদের উদ্বোধন:মঙ্গলবার রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। এছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হালনাগাদ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, সাভার উপজেলায় হালনাগাদ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং রাজশাহীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ইসির ১৬ নির্দেশনা:ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচিতে এবার প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীকে তাদের পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে ১৬টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, ২০০১, ২০০২, ২০০৩ ও ২০০৪ সালের পহেলা জানুয়ারি অথবা তার পূর্বে যাদের জন্ম তাদের এবং বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের তথ্য নিবন্ধনের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা হতে মৃত ভোটারের নাম কর্তন এবং আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের তথ্যও সংগ্রহ করা; তথ্য সংগ্রহকালে কোনো ব্যক্তির তথ্য ফরম পূরণের পূর্বে তিনি ইতিপূর্বে ভোটার হয়েছেন কি-না তা অবশ্যই নিশ্চিত করা; বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে বাদ পড়ার কারণ যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হওয়া; কোনো ব্যক্তির নামের আগে বা পরে কোনো পেশা, খেতাব, পদবি অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সংযুক্ত না করা; ভোটারযোগ্য ব্যক্তির বাংলা নামের ইংরেজি বানান যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা; বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সময় ভোটারযোগ্য অনুপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্যাদি অবশ্যই রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা। নিবন্ধন কেন্দ্রে আসার জন্য নিবন্ধন স্লিপ (ফরম-৫) ফরম পূরণের সাথে সাথে দেওয়া; সুপারভাইজার কর্তৃক তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রতিদিনের তথ্য সংগ্রহের কাজ তদারকি ও নমুনা যাচাই করা; সুপারভাইজাররা তথ্য সংগ্রহকারীর পূরণকৃত ফরমের কিছু অংশ দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুদ্ধতা যাচাই করা এবং কোনো ভুল ধরা পড়লে তা শুদ্ধ করা।
