ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠতে যাওয়া আফগানিস্তানের চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৪০তম ওভারে এসে মাশরাফির বলে আসগর আফগান (৩৯) ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদউল্লাহর হাতে। অপরপ্রান্তে রয়েছেন হাফসেঞ্চুরিয়ান হাশমতউল্লাহ শাহিদী। এই জুটিতে ৮০ রান করে দলটি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪০ ওভারে আফগানদের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৬৯ রান।
২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আফগানদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ২০ রানে ইহসানউল্লাহকে নাজমুল হাসান শান্তর ক্যাচে পরিণত করে পাঠান সাজঘরে।
এরপর অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে রহমত শাহকে রান আউট করেন সাকিব। পরে শাহজাদ ও হাশমত উল্লাহ শাহিদী ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তখনই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
২৫তম ওভারে বল করতে এসে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই হাফসেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজাদকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। ৮৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারানো আফগানদের চতুর্থ উইকেটটি নেন মাশরাফি। ১৬৭ রানে চতুর্থ উইকেট নেয়ার পর আবার খেলায় দারুণভাবে প্রত্যাবর্তন হয়েছে বাংলাদেশের।
এর আগে রবিবার বিকেলে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৪৯ রান করেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৮৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো স্কোর গড়ে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান। রিয়াদ আউট হলেও অপরাজিত ছিলেন ইমরুল।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে মাত্র ১৮ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল মাশরাফি বাহিনী। সেখান থেকে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম দলকে টেনে তুলছিলেন। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি। ১৯তম ওভারে এসে পাল্টে যায় চিত্র। ৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দলীয় ৮১ রানে রশিদ খানের বলে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। এরপর মাঠে নেমে একই ওভারের শেষ বলে রান আউট হয়ে যান সাকিব। দলীয় ৮৭ রানে ২১তম ওভারে এসে ফের রান আউটের শিকার হন মুশফিক।
চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বাঁধেন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেখান থেকে ১২৮ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন এ দুজন। ৮১ বল থেকে তিনটি চার ও দুটি ছক্কার মারে মাহমুদউল্লাহ ৭৪ রান করে আউট হয়েছেন। তবে ৮৯ বলে ছয়টি চারের মারে ইমরুল ৭২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। পরে মাশরাফি ও মিরাজ মাঠে নেমে আফগানিস্তানকে ২৫০ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান উভয়ে প্রথম ম্যাচে হেরেছে। তাই এই ম্যাচে যারা হেরে যাবে তাদের বিদায়ও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/কেআই
