ঘিওরে সংঘর্ষে ৯ জন আহত, আটক ৬

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৩১

মানিকগঞ্জের ঘিওরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও এশিউর নামের একটি কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বালিয়াখোড়া বাষ্টিয়া, পুরানগ্রাম এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলো, এশিউর কোম্পানির ম্যানেজার মো. লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার মামুন অর রশিদ, কর্মচারী মো. মিলন শেখ, ড্রামট্রাকের চালক কলিম উদ্দিন, গ্রামবাসী মালেক দেওয়ান, হযরত আলী।

আহতদের জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারো যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো, পুরান গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে পাশান আলী, টুকানের ছেলে মাদাইরা, নছের আলীর ছেলে পরান, বিদু মিয়ার ছেলে সালাম, বাষ্টিয়া গ্রামের রহুম উদ্দিনের ছেলে শহিদসহ ৬জন। আরও গ্রেফতারের ভয়ে গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

এশিউর কোম্পানির ম্যানেজার মো. লিয়াকত হোসেন জানান, গত কয়েক মাস ধরে কোম্পানির জায়গায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে। যাতে পাশের কোনো জমির ক্ষতি না হয়, সেজন্য কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার মাটি ফেলার সময় ড্রাম ট্রাকের চাকায় পার্শ্ববর্তী সামুউদ্দিনের খেতের কয়েকটি ভুট্টা গাছ ভেঙে যায়। এতে সামুউদ্দিন এসে কোম্পানির মালিকসহ উপস্থিত কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে মালিকপক্ষ ভুট্টাখেতের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু তাতে সামুউদ্দিন শান্ত না হয়ে তার আত্মীয়-স্বজন ডেকে এনে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করে। মালিকপক্ষ থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ করায় মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের দুই শতাধিক লোকজন কাঁচি, দা, লাঠি নিয়ে কোম্পানির লোক ও ভেকু এবং ড্রামট্রাকের উপরে হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা ঘিওর থানার এস আই আলতাফ হোসেন জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কিছু লোক আহত হয়েছে। তবে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তো অল্পস্বল্প আঘাত লাগতেই পারে। ঘিওর থানার ওসি তদন্ত আনিসুল হক জানান, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তিনি আরো জানান, কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানি না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর তত্পরতা চলছে।

উল্লেখ্য, এশিউর কোম্পানির হাত থেকে ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন করেছিলেন শতাধিক কৃষক। মানববন্ধন শেষে এর প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী কৃষক জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর দিয়েছেন।

এসব ঘটনা নিয়ে এশিউর কোম্পানি ও গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত্ দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।