অধিকাংশ ফার্মেসির নেই ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৩১

নারায়ণগঞ্জে ছয় শতাধিক ফার্মেসি পরিচালিত হচ্ছে কোনো ফার্মাসিস্ট ছাড়াই। বেশিরভাগ ফার্মেসিতেই তাত্ক্ষণিকভাবে একজন রোগীর প্রেসার কিংবা ডায়াবেটিস চেকআপের কোনো সরঞ্জাম নেই। আইন অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। আবার অধিকাংশ ফার্মেসিরও নেই ড্রাগ লাইসেন্স। এদিকে শহরের কালিরবাজার, চাষাঢ়াসহ বিভিন্ন স্থানে ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ বিদেশি ওষুধ। ক্রেতাদের কাছে বিদেশি ওষুধ বিক্রি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কালিরবাজারের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসা ইমরান হোসেন জানান, তার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার নিয়মিত এ ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনেন। একদিন সকালে তার বাবা ওষুধ কিনতে আসার পর হঠাত্ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে সেখানেই ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় তার বাবা মাটিতেই পড়ে আছে। এসময় তিনি ফার্মেসির লোকজনকে তার প্রেসার মাপার অনুরোধ করলে তারা জানায় তাদের এখানে প্রেসার মাপার সরঞ্জাম নেই। তখন রক্তে সুগার পরীক্ষার কথা বললে তারা জানায় সে ধরনের কোনো ব্যবস্থাও তাদের নেই। অথচ সে ফার্মেসিতে ডায়াবেটিসের সকল ওষুধ বিক্রি করা হয় বলে সাইনবোর্ড লাগানো আছে। এ ব্যাপারে সেই ফার্মেসির মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার এখানে কোনো ফার্মাসিস্ট নেই। একই অবস্থা শহরের অন্য ওষুধের দোকানগুলোতেও।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানান, ওষুধ প্রশাসনের দায়িত্ব ফার্মেসিগুলো দেখাশোনা করা। ওষুধ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে মোবাইল কোর্ট চালানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।