প্রতি পাঁচ বছর পর পর সমুদ্রনীতি পরিকল্পনা করে জাপান। তারা সমুদ্রনীতির আন্তর্জাতিক আইন মানতে বদ্ধপরিকর। জাপানের সমুদ্রনীতি থেকে শিক্ষা নিতে পারে বাংলাদেশ। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘জাপানিজ মেরি টাইম পলিসি অ্যান্ড ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি’ বিষয়ক এই বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাপানের দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা কেন্দ্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের উপ-রাষ্ট্রদূত তাকেসি ইতো। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাপানের সফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক অশুকো নেহেরা।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক অশুকো নেহেরা বলেন, ‘জাপান প্রতি পাঁচ বছর সমুদ্রনীতির পরিকল্পনা করে থাকে। মন্ত্রী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের মে মাসে তৃতীয় সমুদ্রনীতির পরিকল্পনা করে।
এর আগে গত ২০০৮ সালে সমুদ্রনীতির প্রথম মূলনীতি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। তারপর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় সমুদ্র নীতি পরিকল্পনা করে। কিন্তু সর্বশেষ সমুদ্রসীমা পরিকল্পনায় সাগর অর্থনীতির নিরাপত্তার বিষয়টি বিস্তৃত আকারে প্রণয়ন করা হয়।’
নতুন সমুদ্রনীতিতে ৯টি বিষয়বস্তু তুলে ধরেন অশুকো নেহেরা। সেগুলো হলো- সমুদ্র নিরাপত্তা, সাগরের উৎপাদন শিল্পসংক্রান্ত ব্যবহার উন্নত করা, সাগরের আবহাওয়া বজায় রাখা ও সংরক্ষণ করা, ম্যারিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস’র ধারণক্ষমতা শক্তিশালী করা, সমুদ্র জরিপ এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নয়ন ও গবেষণা বাড়ানো, দূরবর্তী দ্বীপগুলোকে সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, উন্নয়ন উত্তর মেরু সংক্রান্ত নীতি উন্নত করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দেয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত তাকেসি ইতো বলেন, সমুদ্র অর্থনৈতিক বিষয়ে জাপানের গুরুত্ব অনেক আগে থেকেই। সমুদ্র নিরাপত্তা, সরকারের পরিকল্পনা ও সাগর পথে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষে সমুদ্রনীতি পরিকল্পনা করে। বাংলাদেশের সাথে জাপানের সমুদ্র বাণিজ্য অনেক আগে থেকেই। তারা জাপানের সমুদ্রনীতি থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
