মুশফিকের এক রানের কষ্ট

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৩
পাজরের ব্যথাটা তো ছিলই। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নেমেছিলেন মাঠে। তারপর থেকে বুক চিতিয়ে লড়েছেন। মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে খাদের কিনারে থাকা দলকে টেনে তুলেছেন। পঞ্চাশ পার হওয়ার পর থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছেন। পেশীতে টান পড়ায় দৌড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে গতকাল আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের দর্শককুল দেখেছে ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহিম যেন হার না মানা সৈনিক। হতে পারতো ক্যারিয়ারের সপ্তম, এশিয়া কাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। কিন্তু ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো নার্ভাস নাইনটিজে কাটা পড়লেন মুশফিক।  শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১ রানের কষ্ট নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ৯৯ রানে আউট হলেন মুশফিক।
 
সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও মুশফিক-মিঠুনের ব্যাটে গতকাল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের অলিখিত সেমিফাইনালে ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়েছে মাশরাফির দল।
 
টসে জিতে ব্যাট করা বাংলাদেশের একাদশে ছিল তিন পরিবর্তন। আঙ্গুলের ইনজুরি নিয়ে চার ম্যাচ খেলা সাকিবকে ছাড়াই নামতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একাদশে ঠাঁই হয়নি টানা ম্যাচ ব্যাট হাতে ব্যর্থ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর। সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক এবং পেস বোলার রুবেল হোসেন। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের পেস দুর্বলতার কথা ভেবেই অপুকে বসিয়ে রুবেলকে খেলানো হয়।
 
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বিপর্যয়মুখর। ১২ রানেই তিন উইকেট। পাকিস্তানি পেসারদের তোপে সাজঘরে ফিরেন সৌম্য (০), মুমিনুল (৫) ও লিটন (৬)। গত অক্টোবরের পর ওয়ানডে একাদশে আসা সৌম্য আবারও হতাশ করেছেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই জুনায়েদ খানের বলে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন। দর্শনীয় এক চার মারার পরের বলেই বোল্ড হয়েছেন মুমিনুল। শাহীন শাহ আফ্রিদির দ্রুতগতির বলটা সামলাতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। লিটনও বোল্ড হয়েছেন। জুনায়েদ খানের বল উপড়ে নিয়েছেন তার অফ স্ট্যাম্প।
 
তারপর চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। তাদের ইনিংস বিনির্মাণের চেষ্টায় সফলতাও এসেছে। চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে পাকিস্তানি বোলারদের উপর চড়াও হয়েছেন তারা। মিঠুন ৬৬ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। মুশফিক ৬৮ বলে করেছেন ৩০তম হাফ সেঞ্চুরি।
 
এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও দলের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এ দুই ব্যাটসম্যান। সেবার ১৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে গড়েন ১৪৪ রানের জুটি। যা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। তাদের যুগলবন্দি আরও লম্বা হয়নি মিঠুন আউট হওয়ায়। দলীয় ১৫৬ রানে হাসান আলীর শিকার ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।  তিনি ৬০ রান করেন।
 
উইকেটে থিতু হতে পারেননি ইমরুল কায়েস। ৯ রান করে শাদাব খানের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি। দলীয় ১৯৭ রানে আউট হন মুশফিক। শাহীন শাহ আফ্রিদির বলটা স্টিয়ার করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ১১৬ বলে ৯টি চারে ৯৯ রান করেন মুশফিক। জুনায়েদের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরেন মিরাজ (১২)। মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটাও লম্বা হয়নি। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে বোল্ড হওয়ার আগে করেছেন ২৫ রান। মাশরাফি আউট হতেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। তিনি ১৪ রান করেছেন।
 
পাকিস্তানের জুনায়েদ খান চারটি, শাহীন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী দুটি করে ও শাদাব খান একটি উইকেট পান। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি