নানা জটিলতা পার হয়ে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে নম্বর ঠিক রেখে মোবাইল অপারেটর বদলের সুযোগ। এটাকে বলা হচ্ছে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা। তবে এই সুযোগ পেতে গ্রাহককে গুণতে হবে ৫০ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট আরো সাড়ে ৭ টাকা। তবে কোনো অপারেটর যদি সিম পরিবর্তনের জন্য টাকা নেয় তাহলে সেটা গ্রাহককে আলাদাভাবে দিতে হবে। অবশ্য অপারেটরদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যেটা জানা গেছে, নতুন গ্রাহককে তারা বিনা পয়সায় সিম দেবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেবে না।
টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা সফলভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন সাধারণ মানুষ এই সেবা নিতে পারবেন।’
এমএনপি সেবার লাইসেন্স পাওয়া ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘এমএনপি সেবা দিতে সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো দিক থেকেই এখন আর ঝামেলা নেই। সোমবার থেকে মোবাইল ফোনের যে কোনো গ্রাহক এই সেবা নিতে পারবেন।’
এমএনপি সেবা নিতে প্রথমে ৩০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হলেও তা পরে পরিবর্তন করে ৫০ টাকা করা হয়েছে জানিয়ে মাবরুর বলেন, যে অপারেটরে গ্রাহক যেতে চায় সে অপারেটরকে ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার অপারেটর বদলে যাবে। পুনরায় অপারেটর পরিবর্তন করতে হলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও মোহাম্মদ জুলফিকার ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু গ্রাহকের অপারেটর বদল হচ্ছে এবং তার তথ্য নতুন একটি অপারেটরে যাচ্ছে, তাই গ্রাহককে এমএনপির সিম উত্তোলন করতে হবে। যে অপারেটরে যেতে চান সেই গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে ফি দিয়ে সিম নিয়ে আসতে হবে। সিম পেতে একজন গ্রাহকের সর্বোচ্চ ৫ মিনিট সময় লাগবে এবং এরপর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেটি সক্রিয় হয়ে যাবে।
এমএনপি সেবা আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্দেশনা ও নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে দুই মাস পিছিয়ে যায়। নম্বর পরিবর্তনের ঝক্কিতে যেতে চান না বলে সেবায় সন্তুষ্ট না হওয়ার পরও অনেকে এতদিন অপারেটর বদলাতে পারেননি। এমএনপি চালু হলে তারা নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে অপারেটররাও তাদের সেবার মান উন্নত করতে চেষ্টা চালাবে বলে সরকার আশা করছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
