থিয়েটারই হলো অভিনয়ের স্কুল

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০৩

শুভেচ্ছা রহমান নাটকের দল প্রাঙ্গণেমোর-এর একজন নিয়মিত অভিনয়শিল্পী। দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে মঞ্চে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাঙ্গণেমোর-এর নিয়মিত বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো ‘শ্যামা প্রেম’, ‘শেষের কবিতা’, ‘আওরঙ্গজেব’, ‘কনডেমড সেল’, ‘হাছনজানের রাজা’। থিয়েটারের নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুব আলম

 

থিয়েটারে আপনার শুরুটা কিভাবে?

ছোটবেলায় দেখতাম আমাদের গ্রামের স্কুলে নাটক হতো। সেটা দেখেই মূলত আমার ভেতরে নাটকে অভিনয় করার ইচ্ছা তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দেওয়ার পর ২০০৫ সালে সুযোগ হয় তিতুমীর কলেজ সাংস্কৃতিক ফোরামে যুক্ত হওয়ার। এখানে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করার সুযোগ পাই। তারপর ২০০৭ সালে কর্মশালার মাধ্যমে প্রাঙ্গণেমোর-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই থেকে এখনো চলছে থিয়েটারের সঙ্গে পথচলা।

 

পেশদারি থিয়েটার হওয়া কতটা জরুরি এবং কেন?

অনেকেই বলে থিয়েটার করা মানে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। এই ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ কথাটাই যৌক্তিক নয়। একজন শিল্পীকে পেশা হিসেবে থিয়েটার বেছে নিতে হলে তাকে অবশ্যই সেখান থেকে পারিশ্রমিক পেতে হবে, তা না হলে শিল্পীও বাঁচবে না, আর শিল্পও বাঁচবে না। ঠিক এ কারণেই বলি, শিল্পকে বাঁচানোর জন্য, একজন শিল্পীকে অনেকদিন ধরে রাখার জন্য পেশাদারি থিয়েটার হওয়া জরুরি। কারণ পেশাদারিত্ব ছাড়া কোনো শিল্পই সঠিক মানে পৌঁছাতে পারে না। আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলে কোনো শিল্পীই এই শিল্পের সঙ্গে বেশি দিন সম্পৃক্ত থাকতে পারে না। শখের বশে কিছুদিন থিয়েটার করা যায়, সারাজীবন নয়। তাই পেশাদারি থিয়েটার হওয়া খুব জরুরি।

 

অভিনয়ের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপি ছাড়াও আনুষাঙ্গিক বই পড়া অভিনেতাকে কতটা সহযোগিতা করে?

নাটকের প্রয়োজনে একজন অভিনেতার বিভিন্ন ধরনের চরিত্র নির্মাণের প্রয়োজন হয়। অভিনেতা তাঁর চারপাশের অবজারভেশন থেকে চরিত্রগুলো নির্মাণ করেন। কিন্তু ধরুন, যদি একটি ঐতিহাসিক চরিত্র নির্মাণ করতে হয় তাহলে অভিনেতাকে সেই চরিত্রের ইতিহাস জানতে হবে। যদি বই পড়ে সেই ইতিহাস তিনি জেনে নেন, তখন তাঁর জন্য সেই চরিত্রটি সঠিকভাবে নির্মাণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একইভাবে কথাটা খাটে অন্যান্য চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও। তাই চরিত্র নির্মাণ ও অনুধাবনে বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

 

একজন অভিনেতাকে নির্দেশকের কী কী সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

একজন অভিনেতা যখন অভিনয় করেন, তখন সবসময় তিনি নিজেকে দেখতে পান না। সে কারণে তিনি                            নিজের ভুলগুলো অনেক সময় ধরতে পারেন না। একজন নির্দেশক যদি অভিনেতাকে সেই ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দেন এবং চরিত্র অনুযায়ী অভিনেতাকে তৈরি করেন তাহলে সেটাই হবে নির্দেশকের কাছ থেকে অভিনেতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অভিনেতাকে                          চরিত্র অনুযায়ী তৈরি করতে নির্দেশকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

 

অভিনেতার বিকাশের ক্ষেত্রে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা কতটা ভূমিকা রাখে?

অভিনেতার বিকাশের ক্ষেত্রে গ্রুপ থিয়েটার চর্চার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এখান থেকে নিয়ম, নীতি, সময়জ্ঞান সবকিছুই একজন অভিনেতার অন্তরে প্রোথিত হয়। এককথায় বলা যায়, থিয়েটারই হলো অভিনয়ের স্কুল। এই পর্যন্ত যারা অভিনয় করে দর্শক নন্দিত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই থিয়েটারের তৈরি।