মোহাম্মদ আরজু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমি আয়োজিত ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী উত্সব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্ত্বরে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে গত শনিবার আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশবরেণ্য কবি ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য কবি আসাদ মান্নান। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আনন্দ, বেদনা ও গৌরবের। এই বাংলাদেশের মাটিতে শহীদের রক্ত মিশে আছে। তাই এই মাটিতে উত্সব আনন্দ যেমন হবে তেমনি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও গণহত্যার কথাও তুলে ধরতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতা, মানুষ, মানবতার মুক্তি, প্রেম-ভালোবাসাকে বাঁচাতে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। যে স্বপ্ন দর্শন নিয়ে বাংলাদেশ হয়েছে সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দেশ এখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। প্রতিটি ঘরের অন্ধকার কাটাতে জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার যেমন কাজ করছে ঠিক তেমনি সবাইকে দেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ চাই। আমাদের সন্তানরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে সেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। সুন্দর কল্যাণ আর সংস্কৃতির পীঠস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এখানে সাহিত্য একাডেমির বৈশাখী উত্সব সোনার মানুষ গড়ার উত্সব হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।’ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শাহওয়াজের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশে গণহত্যা:প্রসঙ্গ ৭১’ বিষয়ে আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক কবি গবেষক ড. আমিনুর রহমান সুলতান, কবি ও কথাসাহিত্যিক মাকিদ হায়দার, কবি মোস্তফা ইকবাল, কবি আশিকুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আল জাবির। আলোচনায় অংশ নেন বৈশাখী উত্সব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন। অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক আল জাবিরকে সাহিত্য একাডেমি বৈশাখী উত্সব সম্মাননা দেওয়া হয়। বিকেলে সূচনা পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবৃত্তি একাডেমি। প্রশিক্ষক পীযুষ কান্তি আচার্যের পরিচালনা এবং আল আমীন শাহীনের সঞ্চালনায় ফারুক আহমেদ পারুল ও মো. হোসেনের সঙ্গীত পরিচালনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পী সংসদ সঙ্গীত পরিবেশন করে।
