পানিতে ‘হেপাটাইটিস-ই’ ভাইরাস রয়েছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য দেশে কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধু মানবদেহের রক্ত পরীক্ষা করে এই ভাইরাস চিহ্নিতের ব্যবস্থা রয়েছে বলে হাইকোর্টকে অবহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে দাখিল করা পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই চট্টগ্রামের ওয়াসার পানিতে ‘হেপাটাইটিস-ই’ ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য কমিটি গঠন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হাইকোর্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নূরুল আলম নিজামীকে সভাপতি করে মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থা থেকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চায়।
পরে এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ থেকে পানি সংগ্রহ করে তা ঘনীকরণের মাধ্যমে ‘হেপাটাইটিস-ই’ ভাইরাস (এইচইভি) শনাক্ত করা যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের সেবা কোনো প্রতিষ্ঠান দেয় কিনা তা আমাদের জানা নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগ শুধু রোগীদের রক্তের নমুনা থেকে ‘হেপাটাইটিস-ই’ ভাইরাস শনাক্ত করে থাকে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, পানির নমুনা হতে ‘হেপাটাইটিস-ই’ ভাইরাসের শনাক্তকরণের প্রযুক্তি আইইডিসিআর’র নেই।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ইনস্টিটিউটের পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি এবং ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে পানি থেকে ‘হেপাটাইটিস-ই’ ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা করা হয় না। একই প্রতিবেদন দিয়েছে চট্টগ্রামের বিসিএসআইআর ও চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি।
