শরণখোলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:০১
বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী এলাকায় মঙ্গলবার ভোর রাতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫/১ পোল্ডারের নির্মানাধীন উপকূলীয় বেড়িবাঁধের  (সিইআইপি প্রকল্প)) প্রায় ২০০মিটার অংশ  ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ । প্রায় ৫ শ একর জমির আমন ক্ষেত বিনষ্টের আশংকা করা হচ্ছে।
 
মঙ্গলবার বিকেলে ভাঙন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুদিন আগে থেকে অল্প করে বাঁধ ভাংতে থাকে। মঙ্গলবার ভোর রাতে বলেশ্বর  নদীর জোয়ারের তোড়ে বিরাট অংশ জুড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 
 
বগী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম মুন্সী (৬৫) জানান, ব্যাংক থেকে তিনি লাখ টাকা লোন নিয়ে আমনের চাষ করেছেন। বাঁধ ভেঙে তার সব শেষ হয়ে গেছে।
 
চাষী জাকারিয়া (৩৫), আফজাল তালুকদার, কামাল পঞ্চায়েত (৩৮) জানান, বাঁধ ভেঙে বগী, বগী দশ ঘর  ও বগী সাত ঘর গ্রামের প্রায় ৫০০ একর জমির আমন ক্ষেত পানির সঙ্গে ভেসে আসা কচুড়িপানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ। জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় দুপুরে বহু পরিবারে রান্না হয়নি। 
 
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাতের জোয়ারে আারো পানির চাপ বেশি হবে। বগী থেকে গাবতলা আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধের অন্তত ১০টি পয়েন্ট মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। 
 
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিইআইপি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনও নিরুপন করা হয়নি।
 
সিইআইপি প্রকল্পের স্থানীয় প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার সময় মোবাইল ফোনে বলেন, ভাঙন এলাকায় রিংবাধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু