শ্রীলঙ্কায় সামাজিক মাধ্যম কেন বন্ধ করা হলো?

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২১

 

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হামলা সম্পর্কিত বিভিন্ন মনগড়া গল্প—আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত সামাজিক মাধ্যম ব্লক করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। ‘ভুয়া খবর’ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ফেসবুক, ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব, ভাইবার ও স্ন্যাপচ্যাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কবে এগুলো খুলে দেওয়া হবে সে সম্পর্কে দেশটির তরফ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। খবর বিবিসি বাংলার

কেন বন্ধ করা হলো সামাজিক মাধ্যম:শ্রীলঙ্কায় রবিবারের সিরিজ হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৯ জনে। রবিবার দেশটির একাধিক গির্জায় এবং হোটেলে সিরিজ বোমা হামলা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘ভিত্তিহীন খবর এবং জল্পনা প্রচার থেকে বিরত’ থাকতে। এর পরপরই সামাজিক মাধ্যমের সাইটগুলো ব্লক করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক, তবে ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ এটি কার্যকর থাকবে। সামাজিক মাধ্যমে টুইটার এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যে টুইটার তেমন জনপ্রিয় নয়। গত বছর মুসলিম বিরোধী সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে কিছুদিনের জন্য ফেসবুক বন্ধ ছিল শ্রীলঙ্কায়। গত নভেম্বরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছিল যে মিয়ানমারে সহিংসতা ছড়ানোর লক্ষ্যে ফেসবুক ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর এবছরের মার্চে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং করার পর সেই ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার জন্যও যথেষ্ট বেগ পেতে হয় ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলোকে। নিউজিল্যান্ডের ঘটনার সময় সামাজিক মাধ্যম বন্ধ না করা হলেও হামলার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সামাজিক মাধ্যমগুলোকেই দায়ী করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডের্ন।

সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করা কি ভালো উদ্যোগ:অনেকের মতে, এরকম নিষেধাজ্ঞার বিকল্প কোনো পথ ছিল না। কারণ ভুল খবর ছড়িয়ে পড়া রোধের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর যথেষ্ট সক্ষমতা নেই। কিন্তু অনেকেই সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করার এই সিদ্ধান্তকে অনলাইনে তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতার পথে বাধা হিসেবে মনে করছেন—বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার মতো দেশে, যেখানে এর আগেও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার নজির রয়েছে। গবেষক ইয়ুধাঞ্জায়া বিজরত্নে বাজফিডকে বলেন যে এটি একটি জটিল সমস্যা। “তথ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের চেষ্টার বিরুদ্ধে এবং তথ্যের গণতন্ত্রায়নের পথে সামাজিক মাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এর অর্থ এই না যে এটি (সামাজিক মাধ্যম) শুধুই কল্যাণ বয়ে আনে। সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা অনেক দ্রুত ছড়ায়, আর ফেসবুক ঘৃণা ছড়ানো কন্টেন্ট বন্ধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”