সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় উদ্ধারকৃত ৮ টুকরা লাশের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি কেটে ৮ টুকরা করা হয়। তারপর তা পলিথিনে ভরে ফেলে দেয়া হয় সড়কের উপর। অপহরণ করে টাকা আদায়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে পোশাক শ্রমিক মেহেদি হাসান টিপুকে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে দুই ঘাতক। গতকাল রবিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানের আদালতে খুনিরা ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি দিয়েছে— ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গা থানার সিংদিয়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আলিম (৩২) এবং নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার আদিয়াবাদ নয়ারচর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে আমানুল্লাহ (২৮)।
আশুলিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা জানান, শনিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে আলিমকে এবং টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমানুল্লাকে আটক করা হয়। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। এরপর তাদেরকে এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, জবানবন্দিতে কেন এবং কিভাবে হত্যা করেছে, হত্যার পর কিভাবে লাশ কেটে টুকরো করে ফেলে দিয়েছে, কোথা থেকে পলিথিন সংগ্রহ করেছে এবং অপহরণের পর কত টাকা আদায় করেছে, কোন নম্বরে মুক্তিপণের টাকা নিয়েছে সেসব বিষয়ে দুই হত্যাকারী বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক শ্রমিক টিপুকে টাকার জন্যই পরিকল্পিতভাবে আলিমের বাসায় হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে তাকে কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে দেরি করায় অপহরণকারীরা টিপুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মৃতদেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। পরের দিন মুক্তিপণের টাকা আদায়ের পর আলিম ও আমানুল্লাহ মৃতদেহটি কেটে ৮ টুকরো করে একটি ড্রামের ভিতরে ভরে রাখে। এরপর মৃতদেহের টুকরোগুলো গুম করার জন্য পলিথিনে ভরে রাস্তায় ফেলে দেয়। কিন্তু ভুলে ৭ টুকরা রাস্তায় ফেলে দিলেও ড্রামের ভিতর থেকে যায় মস্তকটি।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার শম্পা আক্তার মৃতদেহটি তার পোশাক শ্রমিক স্বামী মেহেদি হাসান টিপুর বলে দাবি করেন। নিহত টিপু যশোরের বাঘারপাড়া থানাধীন অন্তরামপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকির ছেলে। এর আগে মানিক নামে একজন আটক করা হয়েছে।
