স্পোর্টস রিপোর্টার
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নির্ভর করছে ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গার ওপর। এমনটাই মত দিলেন দেশটির সাবেক পেসার চামিন্দা ভাস। তিনি মনে করেন, মালিঙ্গার বোলিং ও নেতৃত্বের গুণ দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রভাব ফেলতে পারবে।
আগামী এক জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ যাত্রা। গেল সপ্তাহেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। চার বছর পর ওয়ানডে দলে এসেই বিশ্বকাপ অধিনায়ক হয়ে গেছেন দিমুথ করুনারত্নে।
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলে চমক এখানেই শেষ নয়। তাদের দলে জায়গা হয়নি সাবেক অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল, উপল থারাঙ্গা, নিরোশান ডিকওয়েলা, অফ স্পিনার আকিলা ধনাঞ্জয়া ও দানুশকা গুনাথিলাকার। ওয়ানডে দলের এসব নিয়মিত মুখের বদলে শ্রীলঙ্কার নির্বাচকরা বিশ্বকাপে আস্থা রাখছেন দলে ফেরা লাহিরু থিরিমান্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধনা, জীবন মেন্ডিস, জেফরি ভ্যান্ডারসের মতো খেলোয়াড়দের ওপর।
নির্বাচকরা যে দল ঘোষণা করেছেন, তার ওপরই আস্থা রাখছেন চামিন্দা ভাস। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩৫৫টি টেস্ট ও ৪০০টি ওয়ানডে উইকেট পাওয়া এই কিংবদন্তি বলেন, ‘নির্বাচকরা ও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দ্বিমুথের ওপর ভরসা রেখেছে। ওর সামনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আমি খুবই নিশ্চিত যে ও দলকে এক করে মাঠে নামাতে পারবে। আমি চাইবো যেন বিশ্বকাপে আমাদের জন্য ইতিবাচক কিছুই আশা করে।’
ভাস মনে করেন, মালিঙ্গাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হলেও তার নেতৃত্বের গুণ দলকে সাহায্য করবে। ২০১৭ সালে কিছুদিনের জন্য লঙ্কানদের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করা ভাস বলেন, ‘কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায় যে, মালিঙ্গা এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন বোলার। আর শ্রীলঙ্কার প্রেক্ষাপটে তিনি অবিসংবাদিত সেরা। আমরা বোলিং আক্রমণে তার ওপরই নির্ভর করবো। নেতৃত্বের গুণে ও আগেই নিজেকে প্রমাণ করেছে। সেটাও বিশ্বকাপে আমাদের সাহায্য করেছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে মালিঙ্গার ফর্ম আরো বেশি আশাবাদী করে তুলেছে ভাসকে। তিনি বলেন, ‘ও দলের জন্য শতভাগ উজাড় করে দিতে সব সময় প্রস্তুত থাকবে। ওকে আমরা মুম্বাইয়ের হয়ে আইপিএলের পারফরম করতে দেখেছি। দেশে ফিরে পরদিন সকালেই আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝড়ো বোলিং করলো। এটাতেই বোঝা যায় যে দল ও দেশের জন্য ও কতটা একাগ্র। আমি মনেকরি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার তুরুপের তাস হবে মালিঙ্গা।’
১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি তাদের সুদিন হারিয়েছে বছর তিনেক হতে চললো। ভাস সেটা মানছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, অতীত নিয়ে বসে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। বললেন, ‘গেল কয়েকটা মাস লঙ্কান ক্রিকেটের জন্য ভালো কাটেনি। এই সময় দলে পরিবর্তন দরকার ছিল। আমি মনেকরি নির্বাচকরা সঠিক কাজই করেছেন। এখন আর অতীত নিয়ে ভাবলে হবে না, সবাই এক হয়ে দেশের জন্য লড়তে হবে।’
