কয়েকদিন ধরিয়া বেশ খানিকটা ঢাক ঢাক গুড় গুড় শেষে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে শীর্ষ বেঠক অনুষ্ঠিত হইতেছে আজ বৃহস্পতিবার। সদ্য-সৃষ্ট এই বাস্তবতায় উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বিষয়ক সংকটের ক্ষেত্রে যে নূতন একটি মাত্রা সৃষ্টি হইতে যাইতেছে সেই ব্যাপারে সর্বমহল একমত হইয়াছেন। বিশেষ করিয়া ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহিত উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হইবার পরে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকটিকে সামনের দিনগুলির জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ হিসাবেই গণ্য করা হইতেছে।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র বিষয়ক জটিলতায় এতদিন ধরিয়া আমেরিকা ও চীন প্রধান দুই শক্তির ভূমিকা পালন করিয়াছে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা ও প্রচার-প্রচারণাতে নেতৃত্ব দিয়াছে আমেরিকা। উত্তর কোরিয়ার দুই প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এইক্ষেত্রে আমেরিকাকে যথাযোগ্য সমর্থন জোগাইয়াছে। পশ্চিমা দেশগুলিও মোটা দাগে আমেরিকার নেতৃত্বেই উত্তর কোরিয়াবিরোধী অবস্থানে অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছে। উল্টোদিকে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র অর্জনের বিষয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি থাকিলেও, আমেরিকার সৃষ্ট যাবতীয় ঝড়-ঝাপ্টা হইতে দেশটিকে রক্ষা করিয়া চলিয়াছে চীন। গত বেশ কয়েক বত্সর ধরিয়া চলমান উত্তর কোরিয়া বিষয়ক চলমান সংকটের ক্ষেত্রে অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া বলিতে গেলে একপ্রকার সাইডলাইনে বসিয়া থাকিয়াছে। এইবার এই ধারাতে পরিবর্তন আসিবে বলিয়া মনে হইতেছে। রাশিয়া অবশ্য এইক্ষেত্রে চীনকে অখুশি না করিবার ব্যাপারে দস্তুরমত সতর্কতার পরিচয় দিয়াছে। উল্লেখ্য, রাশিয়া ইতোমধ্যে জানাইয়া দিয়াছে যে, চলমান সংকট নিরসনে চীন ও উত্তর কোরিয়া প্রণীত ‘রোডম্যাপটি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই মস্কো ও পিয়ংইয়ং-এর মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হইতেছে। এইখানেই শেষ নহে, উত্তর কোরিয়ার সহিত সভার ঠিক পরের দিনই বেইজিং উড়িয়া যাইতেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ধারণা করা হইতেছে যে, ফেব্রুয়ারি বৈঠকটি বাতিল হইবার কারণেই রাশিয়াকে কাছে টানিবার কৌশল অবলম্বন করিয়াছে উত্তর কোরিয়া। সম্ভবত কেবল চীন নহে, অন্যতম প্রধান পরাশক্তি রাশিয়াও যে পক্ষে রহিয়াছে তাহা প্রমাণ করিবার একটি আকাঙ্ক্ষাও এইক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কাজ করিতেছে। রাশিয়ার সহিত সম্পর্ক বাড়াইতে চাহিবার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের বিবেচনাও থাকিতে পারে বলিয়া ধারণা করা হইতেছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত দুই বত্সরে রাশিয়া প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিককে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত্ পাঠাইয়া দিয়াছে। বিশ্ব মুরুব্বীদের অবরোধের কারণে বিদেশি মুদ্রার ভয়াবহ সংকটের মধ্যে থাকা দেশটির জন্য এই পদক্ষেপ বড় রকমের চাপ হিসাবেই আবির্ভূত হইয়াছে।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে শীর্ষ বৈঠকটিকে প্রধান শক্তি আমেরিকা কীভাবে গ্রহণ করে তাহাই এখন গবেষণার বিষয় হইয়া উঠিয়াছে। শুরুর দিকে নমনীয়তা দেখাইলেও, ইদানীং উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে পুনরায় গগনবিদারী হইয়া উঠিতেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়া বিষয়ে চীন ও রাশিয়া একবার যদি এক নৌকাতে ভালোভাবে উঠিয়া বসে তাহা হইলে এইক্ষেত্রে আমেরিকার এতদিনকার একাধিপত্য কীভাবে টিকিয়া থাকে তাহা অবশ্যই দেখিবার মতো একটি বিষয় হইবে।
