জবিতে অনলাইন পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০০

আহসান জোবায়ের

ভর্তি প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে ২০১৮ সাল থেকে ‘শিওর ক্যাশে’ পেমেন্ট প্রক্রিয়া চালু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞের অভাবে বছর না যেতেই এই প্রক্রিয়াটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। শিওর ক্যাশে পেমেন্ট প্রক্রিয়া সর্বত্র চালু না থাকা, সময়মতো আইডি আনলক না হওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের আগে আইডি লক হয়ে যাওয়া ও নেটওয়ার্কিং জনিত সমস্যাসহ নানা জটিলতায় অনলাইন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলছেন, অনলাইনে পেমেন্ট করতে শিক্ষার্থীরা কোনো ভোগান্তির শিকার হয় কি না এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়াতে নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যা রয়েছে। যদি এই নিয়ে শিক্ষার্থীরা কোনো ভোগান্তি পোহায়, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। আর শিওর ক্যাশে পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় ঝামেলা হলে আমরা আরো কয়েকটা প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে দেখবো।

জানা যায়, ২০১৮ সালে ২০১৬-১৭ সেশন থেকে অনলাইন শিওর ক্যাশে পেমেন্ট প্রক্রিয়া চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শিওর ক্যাশ সর্বত্র সহজলভ্য না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ক্যাম্পাসের আশপাশে দোকানে পেমেন্ট করতে গেলে লম্বা লাইন লেগে যায়। নেটওয়ার্ক জটিলতা ঘটলে কয়েকঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এদিকে পেমেন্ট করার আগে আইডি আনলক করতে গেলে সমস্যা দেখা দেয়। পেমেন্টের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও আইডিতে পেমেন্ট করা যায় না। এতে বাড়তি জরিমানা গুনতে হয় শিক্ষার্থীদের। আর এর জন্য আইটি খাতের অবকাঠামো সংকট, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব ও ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা অদক্ষ জনবলকে দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, ভর্তির দায়িত্বে থাকা একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই ‘বিশেষ’ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি সবকিছু সামলিয়ে উঠতে পারছেন না।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেমেন্ট করার আগে আইডি লগইন করার কথা বলা হলেও সময়মতো তা করা যায় না। আর শিওর ক্যাশে পেমেন্ট কার্যক্রম সহজলভ্য নয়। এতে প্রতিবার ভর্তি এবং ফরম ফিলাপের সময় জরিমানা করা হয়, যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণত ভর্তি এবং ফরম ফিলাপ মিলে যে টাকা লাগে, এখন ভর্তি ফরম ফিলাপ করাতে গেলে জরিমানাসহ অতিরিক্ত টাকা গুণতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছেলেমেয়ে নিজেদের টিউশনির কষ্টার্জিত পয়সা দিয়ে দিন যাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা করি।

নেটওয়ার্কিং এন্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটা সমস্যা রয়েছে। লোকবলের অভাব রয়েছে। এই কাজে দক্ষ জনবল পাওয়া যায় না। আর নতুন একটা সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতেও সময় লাগে। এটি একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। আমরা খুব দ্রুত সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করে ব্যবস্থা নেবো।