মানিকগঞ্জ শহরের প্রবেশদ্বার শহীদ স্বরণী সড়ক। যার প্রায় ১ হাজার মিটার (প্রবেশ মুখ থেকে সরকারী সদর হাসপাতাল গেট পর্যন্ত) রাস্তার দুই পাশ এবং ফুটপাত দখল করে স্ট্যান্ড বানিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অনেকাংশ দখল করে পৌরসভা পৌর সুপার মার্কেট বানিয়ে দখল করে রেখেছে। দখলে রয়েছে ফল মার্কেট ও ভ্রাম্যমান প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান। মানিকগঞ্জ পৌরসভার ব্যানারে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবহন নেতা জাহিদুল ইসলাম এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
রাস্তার বেশীরভাগ জায়গা দখল করে অটো, সিএনজি, লেগুনা স্ট্যান্ড ও ভ্রাম্যমান দোকানপাট বসিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা পৌরসভাকে না জানিয়েই অবৈধভাবে দখল করে পরিবহন মালিকদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করেছে সওজ কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ পথচারীদের হেঁটে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য এবং ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মার্কেট, কাঁচাবাজার, পাশাপাশি থাকায় সবসময় মানুষের আনাগোনা এ রাস্তাকে ঘিরে। ফুটপাত না থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে দূষিত দুই ফিটের ড্রেন। চাপা ড্রেনের উপর দিয়ে একে অপরের গা ঘেঁষেই হাঁটতে হচ্ছে সকলকে। ঝুঁকি আছে ড্রেনে পড়ে যাবার। ড্রেনের সঙ্গে লাগানো দোকানগুলোতে ঝালাইয়ের কাজ করছে কারিগররা। অনেক সময় ঝালাইয়ের ফুলকি এসে পড়ছে হেঁটে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর। কেউ বা থামছে কেউবা ঝুঁকি নিয়েই এগুচ্ছে। ফুটপাতে চায়ের দোকানের গ্যাসের সিলিন্ডার রাস্তার ওপরই রাখা হয়েছে।
ডিসপেনসারি কর্মচারী হারুন জানায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে প্রতিনিয়তই ভিড় লেগে থাকে। এখানে সহজে হেঁটে যাওয়ার মতো কোন অবস্থা নেই। পরিবহন স্ট্যান্ড, ভ্রাম্যমান দোকান এবং পার্কিংয়ে সবটা জায়গা আটকে থাকে। বাধ্য হয়েই ড্রেনের ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। প্রভাবশালীরা এই আটোস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমান টাকা চাঁদা আদায় করে। এদের কারনেই মূলত ফুটপাত দখল বন্ধ হচ্ছে না।
সিএনজি ড্রাইভার ওয়াসিমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে অনুমানিক ৫০টি সিএনজি আছে। প্রতিটি সিএনজি থেকে ৫০টাকা এবং বহিরাগত সিএনজি (যাত্রী নিয়ে গেলে) থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা নেয়।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম চাদাবাজির বিষয় অস্বীকার করেন।
মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, আমাদের সড়কের বেশীরভাগ জায়গা দখলে থাকায় সড়কের প্রবেশদ্বারে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, জায়গা না থাকার কারনে আমরা সড়ক ও জনপথের জায়গা অস্থায়ীভাবে তাদের ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা জাহিদুল ইসলামের কাছে লিজ দিয়েছি। আমরা পরিবহন মালিকদের প্রতিটি সিএনজি থেকে ২০ টাকা করে জমা দিতে বলেছি। এর বাইরে কেউ নিয়ে থাকলে তা আমাদের জানা নেই। এটা অবৈধ।
ইত্তেফাক/নূহু
