কোর্ট রিপোর্টার
যুক্তরাজ্যে অর্থ পাচারের একটি মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক সময়ের ঘনিষ্ট বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মানি লন্ডারিং আইন ২০০২ এর ১৩ (২) ধারা অনুযায়ী আসামিকে ওই দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ২০০৭ সাল থেকে কারাগারে থাকা মামুনের নামে লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের হিসাবে থাকা পাচারকৃত ৪৪ হাজার ৬১০ দশমিক শূন্য ৮ ব্রিটিশ স্টালিং (বাংলাদেশি টাকায় ছয় কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা) রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হল। রায় ঘোষণার আগে মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিটিএল ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান এম শাহজাদ আলী নেদারল্যান্ডের একটি ঠিকাদারি কোম্পানির বাংলাদেশের এজেন্ট ছিলেন। ওই কোম্পানি রেলওয়ের সিগন্যালিং আধুনিকীকরণের টেন্ডার পান। কিন্তু ২০০৩ সালে কার্যাদেশ চূড়ান্ত করার সময় আসামি মামুন উক্ত কাজের বিপরীতে তার কাছে অবৈধ কমিশন দাবি করেন। অন্যথায় কার্যাদেশ বাতিল করার হুমকি দেন। এরপর শাহজাদ আলী ২০০৪ সালে ৬ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা মামুনের লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা করেন। ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই অভিযোগেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করে দুদক। মামলার বিচারকালে ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল আদালত এ রায় দেয়। আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও মামুনের পক্ষে খায়রুল ইসলাম লিটন মামলা পরিচালনা করেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করার পর থেকে কারাগারেই আছেন। মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০টিরও বেশি মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে অর্থপাচারের অভিযোগে অন্য একটি মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। অস্ত্র মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে হাইকোর্ট বাতিল করে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
