বাস চালককে হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ১২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩১

চট্টগ্রাম অফিস

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির নামে এক বাসচালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কপথে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ১২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটি মঙ্গলবার এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও সংশ্লিষ্ট ১৯ সড়কপথে এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কসহ সংশ্লিষ্ট ১২টি সড়কপথে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

পরিবহন মালিকরা ধর্মঘটে সমর্থন দিয়েছেন বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ সভাপতি মনজুরুল আলম মনজু। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনা হলে আগামী রবিবার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রামে সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি আহ্বান করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, বাসচালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গতকাল বুধবার সিএমপির কর্ণফুলী থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বিকালে নিহত চালক জালাল উদ্দিনের ভাই জুয়েল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর মাহমুদ জানান, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এখন তদন্ত কার্যক্রম চলবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা গাজীপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস চট্টগ্রামের পটিয়া থানার শান্তিরহাট এলাকায় আসার পর মাইক্রোবাস আরোহী একদল লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। এরপর ইয়াবা আছে বলে তারা চালককে হাতকড়া পরিয়ে নিচে নামিয়ে বেদম পেটায়। এতে চালক জালাল উদ্দিন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে বাসে তুুলে দেওয়া হয়। আহত চালককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবহন নেতাদের অভিযোগ, মাইক্রোবাস আরোহীদের হাতে ওয়াকিটকি ও অস্ত্র ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

২৯ এপ্রিল সিলেট বিভাগে কর্মবিরতি

পালনের ঘোষণা

সিলেট অফিস জানায়, আগামী ২৯ এপ্রিল সিলেট বিভাগে সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক। সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা, পুলিশী হয়রানি বন্ধ, দুর্ঘটনাকে হত্যা মামলা হিসেবে রুজু না করাসহ সাত দফা দাবিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সাত দফা দাবি আদায়ে গতকাল বুধবার সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন প্রস্তুতি সভা করেছে। দক্ষিণ সুরমা বাবনা পয়েন্টের কার্যালয়ে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।