অন্তিম ইচ্ছায় মোংলায় সমাহিত বাংলাদেশের বন্ধু ফাদার রিগন

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৯
হাজারো ভক্ত-অনুরাগীদের কাঁদিয়ে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ইতালির নাগরিক ফাদার মারিনো রিগনকে তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী রবিবার বিকালে বাগেরহাটের মোংলার শেলাবুনিয়ায় সেন্টপলস গির্জার পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
 
ফাদার রিগনের মৃত্যুর এক বছর পর সরকারিভাবে তার মরদেহ ইতালি থেকে ভোরে দেশে আনা হয়। এরপর সকাল ৯টা ৪৮মিনিটে তার কফিনবাহী হেলিকপ্টারটি মোংলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অবতরণের পর ফাদার রিগানের কফিনটি গ্রহণ করেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস। মোংলা উপজেলা পরিষদের মাঠে ফাদার মারিনো রিগনের কফিনে সর্বস্তরের হাজার-হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। দুপুরে ফাদার মারিনো রিগনের প্রতিষ্ঠিত সেন্টপলস উচ্চ বিদ্যালয় এবং সেন্টপলস হাসপাতালে মরদেহ নেওয়া হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ হাজারো অনুরাগীরা কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। 
 
রবিবার বিকালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেন্টপলস গির্জার পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফাদার মারিনো রিগনকে সমাধিস্থ করার সময়ে তার কফিনের সঙ্গে ঢাকা থেকে মোংলায় আসা ইটালির রাষ্ট্রদূত মিস্টার মারিও পালমা, ইটালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল বীরপ্রতীক সাজ্জাত আলী জহির, সচিব নমিতা হালদার, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ দুইয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সুডানা ইকরাম চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ প্রোটকল অফিসার মোনতাসির, ঢাকার ফার্মগেট চার্চের ফাদার মাই লিলিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম, উপসচিব আসাদুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সুলাইমান হোসেন, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ কয়েক হাজার ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।
IMG0
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফাদার মারিনো রিগন। ছবি: সংগৃহীত
 
ফাদার মারিনো রিগন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা প্রদানের পাশাপাশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তাকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৯ সালে সরকার তাকে Friends of Liberation War Honour  পদক প্রদান ও বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
 
ফাদার রিগন মোংলায় থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেললে ২০১৪ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি তার ভাই-বোন এসে তাকে ইতালিতে নিয়ে যান। ইতালিতে মৃত্যু হলে তার লাশ বাগেরহাটের মোংলার সেন্ট পলস গির্জার পাশে সমাহিত করতে হবে এই শর্তে তিনি স্বজনদের সঙ্গে ইটালি যেতে রাজী হন। গত বছরের ২০ অক্টোবর ইতালির ভিচেঞ্চায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগন। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ