নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি যোগে চলাচল করছে যাত্রী সাধারণসহ যানবাহন চালকরা। ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি দিয়ে পারাপার হচ্ছে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন। ঘাটের দুটি ফেরি রয়েছে। দুটি ফেরিতে দুটি করে চারটি ইঞ্জিন রয়েছে। কিন্তু চারটি ইঞ্জিনের দুটি সব সময়ই বিকল থাকে। এ জন্য ঘাটে ফেরি ভিরতে গিয়ে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা লেগে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হন। শুধু তাই নয়, পন্টুন ও গ্যাংওয়ের অবস্থা জরাজীর্ণ। ইঞ্জিন বিকলের কারণে প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয় যাত্রী সাধারণকে। প্রতিদিন দেশের প্রায় ১৭টি জেলার যাত্রী শীতলক্ষ্যা নদীর এ ফেরি দিয়ে চলাচল করে।
তবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ও এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বলেছেন, ফেরিঘাটের পার্শ্ববর্তী ইছাখালী-মুড়াপাড়া গঙ্গানগড় এলাকায় অবস্থিত দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। আর এ সেতু উদ্বোধন করা হলে দুর্ভোগ কমে যাবে। দ্রুত গতিতে ইছাখালী অংশের কাজ চলছে।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক যোগে আসা প্রায় ১৭টি জেলার যাত্রীরা মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরি যোগে পারাপার হয়ে এয়ারপোর্টসহ রাজধানীতে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, দাউদকান্দি, চাঁদপুর, মতলব, নোয়াখালী, ফেনি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, আশুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের যাত্রীরা এ পথ ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ভুলতা ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে না গিয়ে ফেরি পথ ব্যবহার করছে অনেক যানবাহন। অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীতে প্রবেশের পথ হিসেবে যাত্রীসাধারণ শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরিযোগে চলাচল করে থাকে। ফেরি দুটি প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। আর ফেরি দুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পারের রাস্তাটি অপ্রশস্ত। এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সব সময়ই এসব ভাঙ্গা গর্তে পানি জমে থাকে। গর্তে পড়ে প্রায় সময়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। নদীর দুই পারে গ্যাংওয়ে ও পন্টুনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পন্টুনের তলায় পানি প্রবেশ করে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক সময় সেচে পানি কমাতে হচ্ছে। ফেরির উপরের পিচ উঠে গিয়ে স্টিলের সিট বের হয়ে গেছে। এতে যানবাহনগুলো স্লিপ করে। ফেরিঘাটের দুই পাড়ই অতিরিক্ত ঢাল হওয়ায় অনেক সময় গাড়ি উঠতে বা নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা বা বিকল হয়ে পড়ে। দুটি ফেরিই প্রায় ২৮ বছর আগের। ইঞ্জিন ও ফেরির বডি মেরামত করে কোনোরকমে চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ফেরির সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা মিটিংয়ে বসেছি। দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। ’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন, ‘ফেরির নানা সমস্যা ও যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
