নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারায় '৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা' উদযাপন করা হলো। সোমবার দুপুরে আঙ্কারাস্থ ওরানের মেনেক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে 'উন্নয়ন মেলা' উদযাপন উপলক্ষে দূতাবাসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের উপর তথ্য ভিত্তিক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উন্নয়ন মেলার এ আলোচনা সভায় বাঙালী প্রবাসী ও তুরস্কে অধ্যায়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীগণ এবাং দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, উক্ত সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন বিষয়ক একটি চিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
উন্নয়ন মেলার শুরুতে রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে সম্মেলন কক্ষে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে '৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা' শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রযাত্রার উপর বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
IMG0
সম্প্রতি মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশের উত্তরণ বিষয়ে দূতাবাস হোটেলের ছবি গ্যালারীতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর 'উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা' শীর্ষক একটি আলোক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
সেমিনারের শুরুতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্বব্যাংকের আঙ্কারাস্থ কার্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মকর্তা হাবীব রব। তিনি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শক্তি ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন দিক এবং সম্ভাবনার দিকগুলো অতিথিদের মাঝে তুলে ধরেন। একইভাবে বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা, বর্তমান সরকারের কৃষি বান্ধব নীতিমালা এবং কৃষি খাতে অগ্রগামীতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থার বিশেষজ্ঞ শেখ মোঃ আহাদুজ্জামান।
সমাপনী বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আজকে বাংলাদেশীদের বৈশ্বিক অবস্থান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের রৈখিক চিত্র উপস্থিত অতিথিদের মাঝে তুলে ধরেন। তিনি এ প্রজন্মের বাংলাদেশীদের ভাগ্যবান উল্লেখ করে বলেন, নতুন এবং অগ্রসরমান বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে তাদের বিরাট ভূমিকা পালনের অবকাশ রয়েছে যা জাতির প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, উন্নয়ন মেলার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারা আগামী ৬-৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে স্থানীয় সুইস হোটেলের সহযোগিতায় বাংলাদেশের খাদ্য উৎসব আয়োজন করবে।
ইত্তেফাক/নূহু
