যানজটে স্থবির রাজধানী। সড়কে যেন গাড়ি এগুতে চায় না। নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। নিউমার্কেট থেকে ধানমন্ডি হয়ে মোহাম্মদপুর বা মিরপুর যেতে সময় লেগেছে অনেক বেশি। কারণ গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নিউমার্কেট ক্রসিংয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা অবরোধ করে রাখলে গোটা নগরীতে যানজটের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। মতিঝিল বা গুলিস্তান থেকে মিরপুর বা উত্তরাগামী মানুষকে যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গাড়িতে বসে থাকতে হয়। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে গোটা রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দিনভর ভ্যাপসা গরম আর যানজটে নগরবাসীর জীবন নাকালে পরিণত হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজের সামনে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচলে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। গাবতলী বা মিরপুর থেকে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে এসে এ্যালিফেন্ট রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে মিরপুর রোডে আসাদ গেট থেকে এ্যালিফেন্ট রোড পর্যন্ত স্থান ভেদে ২/৩ ঘণ্টার যানজটে ভুগতে হয় নগরবাসীকে। নিউমার্কেট, কলাবাগান, রাসেল স্কোয়ার, আসাদ গেট, কলেজ রোড, শ্যামলী, কল্যাণপুর হয়ে মিরপুর-১ নম্বর গোল চক্কর হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর সেকশন পর্যন্ত একই অবস্থা। এর প্রভাব অন্যান্য সড়কগুলোতে।
বিকালে মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকা থেকে ঘরমুখী মানুষ হেঁটে রওনা দেন। আবার অনেকে বাসে উঠেছেন বাসায় যেতে, তারাও বাধ্য হয়ে হেঁটে বাসায় ফিরেছেন। মতিঝিল থেকে মিরপুর, মতিঝিল থেকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী যেতে আড়াই থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। আবার গুলিস্তান থেকে কাকরাইল মোড় হয়ে মগবাজার দিয়ে গুলশান-১ বা গুলশান-২ এ যেতে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। যারা উত্তরা বা টঙ্গী, সাভার, গাজীপুর অথবা মতিঝিল থেকে নারায়ণগঞ্জ, কাঁচপুর অথবা কেরানীগঞ্জ গিয়েছেন তাদের গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছে।
