সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ০২:৩৯
দাবি না মানলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। তবে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে সরকারের সঙ্গে সংলাপ-সমঝোতার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট করতে সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামীকাল রবিবার চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক দল ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের পরই তফসিল ঘোষণার অনুরোধ জানিয়ে এ চিঠি দেওয়া হবে। আগামী ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশন সাক্ষাত্ করবেন। সেই সাক্ষাতে যেন এই সংলাপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়- সেটাই চায় ঐক্যফ্রন্ট। এদিকে সরকারকেও আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দিবে ঐক্যফ্রন্ট। তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাত্ চাইবেন। সেই সাক্ষাতে বর্তমান সরকারকে সমঝোতায় আসতে আলোচনায় বসতে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
 
বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।
 
এদিকে ঘোষিত সাত দফা ও ১১টি লক্ষ্যকে সমন্বয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন এবং ওবায়দুল কাদেরের বাসায় চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দলটির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
 
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা জানান, আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপর তারা চট্টগ্রামের সমাবেশে যাবেন বিমান যোগে।
 
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেব।
 
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দুইটা চিঠি দেওয়া হবে। একটা প্রধানমন্ত্রীকে, অন্যটি ওবায়দুল কাদেরকে। চিঠিতে মূলত, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে। ঐক্যফ্রন্টের সাতদফা ও ১১ লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই তাদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা ইত্তেফাককে বলেন, সরকার আমাদের দাবি মানতে চাইছে না। তারা এমনিতে মানবেও না। শেষ পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য আন্দোলন। তবে আন্দোলনের আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি-নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাষ্ট্রপতি-সবাইকে বলবো, লিখিতভাবে জানাবো যে, সংলাপে বসুন। পরিস্থিতি খারাপ হোক আমরা চাই না। তফসিলের আগে একটা সমাধানে আসতে হবে। তা না হলে আমরা রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
 
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু জানান, আন্দোলনের আগে আমরা চাই সমঝোতা। তফসিলের আগে সমঝোতা চাই। ইসিকে সকল অংশীজনকে নিয়ে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়ে চিঠির খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে অর্থবহ সংলাপ আয়োজনের প্রস্তাব ছাড়াও সংসদ ভেঙে দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য ভোটের দাবি জানানো হচ্ছে চিঠিতে।
 
এদিকে একটি সূত্র জানায়, আন্দোলনের চেয়ে সমঝোতায় আগ্রহী বিএনপি নেতারা। তারা সেটাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সরকার যদি ৭ দফার কয়েকটি দাবি মেনে নেয় এবং সেখানে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়, সেক্ষেত্রে ভোটে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক বিএনপি নীতিনির্ধারকরা। এমন চিন্তা মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাই, ইশতেহার তৈরিসহ প্রাসঙ্গিক কাজগুলোও গুছিয়ে আনা হচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এগিয়ে রাখা হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি বিষয়েও চলছে আলোচনা।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি