চাঞ্চল্যকর যশোর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কবির হোসেন পলাশ হত্যা মামলার রায়ে ১১ আসামির মধ্যে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমএ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার মৃত শফি মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম, চাঁচড়া রায়পাড়ার মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে প্রিন্স ওরফে বিহরী প্রিন্স, গাড়িখানা রোডের মোসলেম উদ্দিন ড্রাইভারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালা মানিক, ঘোপ বৌ-বাজার এলাকার মজিবর শেখের ছেলে রবিউল শেখ, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের গাজী জাহিদুর রহমানের ছেলে সজল, সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে টুটুল গাজী, বেজপাড়ার টিবি ক্লিনিক এলাকার ফিরোজ আলীর ছেলে ফয়সাল গাজী, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বিল্লাল খানের ছেলে শহিদুল ইসলাম খান ওরফে সাইদুল এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বহরমপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার ভাড়াটিয়া শহিদুল ইসলাম।
এরমধ্যে পলাতক রয়েছেন, শহিদুল ইসলাম খান ওরফে সাইদুল, শহিদুল ইসলাম, প্রিন্স ওরফে বিহারী প্রিন্স, জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালা মানিক ও রবিউল শেখ। এছাড়া কারাগারে রয়েছেন আল মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ, টুটুল গাজী, সজল, রাজ্জাক ফকির, ফয়সাল গাজী ও তরিকুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় এরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
খালাসপ্রাপ্ত দুইজন হলেন- যশোরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে আল মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ ও পূর্ব বারান্দীপাড়া কবরস্থান রোডের আব্দুল করিম ফকিরের ছেলে রাজ্জাক ফকির।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় যশোর শহরের ঈদগাহ মোড়ে চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসেছিলেন কবির হোসেন পলাশ। এসময় দুটি মোটরসাইকেলে সন্ত্রাসীরা এসে পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা মেরে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেল কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন ফারহানা ইয়াসমিন ১৩ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মামলায় জব্দ তালিকা, সুরতহাল রিপোর্ট, চিকিৎসক, দুই আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৯ জনের আদালতে সাক্ষ্য ও জেরা সমাপ্ত হয়। গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ২৫ অক্টোবর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালতের বিচারক মঙ্গলবার রায়ের দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট এনামুল হক। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌহিদুল রহমান তুষার।
ইত্তেফাক/আরকেজি
