দামাইল

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৫৩

ইমরান উজ-জামান

মাদার পীরের ভক্তরা অবশ্য মাদার বাঁশের আগমন উপলক্ষে বাড়িতে সকাল থেকেই খিচুরি কেউবা পায়েস রান্না করে প্রস্তুত থাকেন। মাদার বাঁশ বাড়িতে এলে মাদার দল ও গ্রামের সবাইকে খিচুরি-পায়েস বেরে করে দেন। এভাবে সারাদিন এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়ি নাচের মিছিল শেষ করে রাত গভীরে ঘরে ফেরে দামাইল দল। আবার কখনো বাড়ি থেকে দূরবর্তী গ্রামে হলে আর ঘরে ফেরা হয় না

মাদার আইলো না রে

ফকির পিতাসে

দম দম বলিয়া মাদার

সবাই দেইখাছে।

মাদার আইলোনারে—

এই হলো মাদার বাঁশ বা দামাইল-এর অপেক্ষায় থাকা গেরস্থ ঘরের বৌ-ঝিদের গান। মাঘ মাসে শীতের কারণে বাড়ির ছেলেমেয়েদের ঠাণ্ডা, খুজলি-পাঁচড়া ও অন্যান্য মৌসুমি রোগবালাই নিয়ে মা-বোনরা খুব ভীত থাকে। তারা মনে করে, দামাইল এই সব রোগবালাই ধুয়ে মুছে নিয়ে যাবে। কাজেই তাদের অপেক্ষা থাকে দামাইলের জন্য।     

মাঘ মাসের পূর্ণিমার তিন দিন আগে থেকে শুরু হয় দামাইল। দামাইল করতে সাতটি বাঁশ লাগে। আয়োজক মাজারের প্রধান মাদারি ফকিরের নেতৃত্বে সেরা ঝাড় থেকে এল এল—বলতে বলতে দা দিয়ে এক কোপে বাঁশ কাাঁ হয়। পরপর সাতটি বাঁশ কেটে নদীতে নামিয়ে গোসল করানো হয়। এছাড়া আগের বছরের বাঁশ বাড়ির পাশের পুকুরে চুবানো থাকলে তা উঠিয়ে গোসল করিয়ে নেওয়া হয়।

বাঁশে তেল দিয়ে চুল ও কাপড় পরিয়ে দেওয়া হয়। সাত রঙের কাপড় দিয়ে বাঁশগুলোকে মুড়িয়ে নিয়ে বাঁশের মাথায় বাঁধা হয় চুমুর বা ঘোড়া অথবা গরুর লেজের চুল। দামাইলকে স্থানীয়রা মাদার বাঁশও বলে থাকে। দামাইল একটি ভ্রাম্যমাণ পরিবেশনা। দামাইলের জন্য সাতটি বাঁশ, সালু কাপড়, আয়না , চুমুর (গরু, ঘোড়ার লেজের চুল) দিয়ে সাজানো হয়। সাতটি বাঁশ সাত রঙের কাপড়ে মোড়ানো হয়। ভক্তরা মনে করেন সাতটা বাঁশ সাত জন পীরকে নির্দেশ করে। এই পীরদের মহিমামতো সাজানো হয় বাঁশগুলো। যে বাঁশটা যত বড় পীরকে নির্দেশ করে, সেটার সাজ হয় বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। কালো কাপড় দিয়ে মোড়ানো বাঁশটা মাদার পীরকে নির্দেশ করে। এটাকে বিশেষত্বমণ্ডিত করতে মাথায় আয়না থাকে একটা, যাতে পীর মুখ দেখেন বলে দাবি করেন মুরিদরা। বাঁশগুলো কোনটা কোন পীরকে নির্দেশ করে জানতে চাইলে, বিক্রমপুরের মুরিদ মিলন সরকার বলেন, ‘এটা বাতেনি বলা যাবে না, বললে অনিষ্ট হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কালো কাপড়ের বাঁশে স্বয়ং মাদার পীর, দোহারের শানাল শাহ’র চুল লাগানো হয়; যা পীরের মাথা থেকে সংগৃহীত।’ প্রত্যেকটা বাঁশে লাগানো থাকে লাল গামছা ও বিভিন্ন রঙের রুমাল। সাত রঙের বাঁশগুলো যারা বহন করেন, তাঁদের পরনেও থাকে নানা রঙের কাপড়। তবে সবার কোমরে একটা করে লাল গামছা থাকা চাই। কারো কারো মাথায়ও বাঁধা থাকে লাল রঙের গামছা। কেউবা আবার লালসালু কাপড় দিয়ে মাথা ও বাহু বেঁধে নেন। ঢোল, মন্দিরা, ঘণ্টা, খঞ্জনি থাকে হাতে।

বিক্রমপুরের শোলার চরের আমির হোসেন সাধু শানাল শাহ’র মুরিদ। প্রতি বছর তিনি দামাইলের নেতৃত্ব দেন। এবারও দায়িত্ব নিয়েছেন। বাঁশ প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর মাজার বাড়ির প্রধান টাকার মালা দিয়ে আমির হোসেনকে দলসহ বিদায় জানান। সঙ্গে আছে সাতটি বাঁশ বহনের জন্য সাত জন খাঁটি খাদেম। কারণ, এই বাঁশ কোনোভাবেই মাটিতে ছোঁয়ানো যাবে না। তাহলে সকলের অনিষ্ট হবে। মাদার বাঁশ নাচানির পীর প্রথম দিন থেকেই উপোস করেন। তিনি একটি কাঁসার ঘটিতে দুধ নিয়ে সেই দুধে একটি আমগাছের ডগা চুবিয়ে ঘটি হাতে থাকেন দলের সঙ্গে। ঘটির গলায় পরানো হয় গাঁদা ফুলের মালা। পীর নিজের গলায় অনুরূপ একটি মালা পরেন। তাঁর সঙ্গে আরো কেউ চাইলে এই বেশ ধারণ করতে পারেন। নিজেদের উঠোন থেকে শুরু হয় দামাইল বা মাদারের নাচ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠানে গোল হয়ে মাদার বহনকারী সাত জন কুশীলব সহযোগীদের ঢোল আর কাঁসির শব্দে ঘুরতে থাকে। আশপাশের গ্রামগুলোয় চলে পালা করে মিছিল করে গান গাওয়ার কাজ। গ্রামের একপাশ থেকে শুরু করে, প্রতিটি বাড়ির উঠোনে পরিবেশনা চলে। সঙ্গে থাকে ঢোল, ঘণ্টাসহ বাদকদল। থাকে ধূপদানি হাতে একজন। গ্রামের অন্য মাথা দিয়ে বের হয়ে যান এবং এভাবে অঞ্চলের প্রতিটি গ্রাম ঘুরতে হয়। ঘুরতে সপ্তাহ লেগে যায়।

ইল ইল ইল

গাজী-মাদার

শাহ-মাদার

দম-দম-দম

আলী-আলী-আলী।

মাদার বাঁশের নাচের জন্য একটি বাড়িতে ঢোকার আগে বয়াতি বলন, ‘গাজী মাদার-শাহ মাদার’ সঙ্গে সবাই একই আওয়াজ তোলেন। আর দোহারেরা সঙ্গে ‘দম-দম’ বলে ধ্বনি তোলেন। বাড়ির উঠানে ঢুকে বাদক দল বিশেষ বাদ্য বাজাতে শুরু করে। বাদ্যের তালে তালে মাদার বাঁশ বহনকারীরা গোল হয়ে নাচতে থাকেন। কখনো কখনো নাচ এক অতিজাগতিক আবহের জন্ম দেয়। মাদার বাঁশ বহনকারীরা নশ্বর জগত্ ছেড়ে অন্য কোথাও পাড়ি জমান। প্রলয়নাচনে কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। তখন কাঁসার ঘটিতে চুবিয়ে রাখা আমপাতা দিয়ে দুধের পানি ছিটিয়ে তার অচেতনতা কাটানো হয়।

মাদারের দল বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করলে বাড়ির মালিক সোনা-রুপার পানি ছিটিয়ে মাদার নাচের জন্য উঠান পবিত্র করে দেন। পবিত্র উঠানে ঢোল আর ডঙ্কার শব্দে গম গম করে। মাদার বাঁশের রাজা কালো মাদার বাঁশের পা চুবিয়ে পানি ও তেল সংগ্রহ করেন ভক্তরা। এ পানি খাওয়ালে রোগবালাই থাকলে সেরে যায়, যে কোনো রকমের রোগবালাই কখনোই কাছে আসে না। এ-বাড়ি ও-বাড়ি থেকে চাল, ডাল, সবজি যে যা দেয় তা-ই সংগ্রহ করার কাজে দুই থেকে তিন জন থাকেন দলের পেছনে পেছনে। নতুন ফসল উঠেছে, যে যা পারেন দিয়ে দেন দামাইল দলকে। কেউবা দেন নগদ টাকা। অন্যদিকে বেতের খাঁচি কাঁধে আর খুঁতি হাতে ভক্তের দেওয়া নজরানা তোলেন তাঁরা। চাল, ডাল, মরিচ, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, সবজি, টাকা—যে যা দেয় সবই নেয়া হয়। এক উঠানের নাচ শেষ হলে বাঁশের মাথা সারি করে নামিয়ে দেওয়া হয় সামনের দিকে। সামনে থেকে একজন সাতটা বাঁশ ধরে অন্য বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আবারও উঠিয়ে দেন আকাশে। কোনো কোনো বাড়িতে খাবার-দাবার তৈরি করে রেখে দেন ভক্তরা। সেই বাড়িতে বসে মজমা, খাওয়া গল্প একটু বিরতি আর চলে গান গাওয়া—

‘যে জন আলেক চিন্নাছে।

তার কিরে ভয়,

যে জন আলেক চিন্নাছে।’

মাদার পীরের ভক্তরা অবশ্য মাদার বাঁশের আগমন উপলক্ষে বাড়িতে সকাল থেকেই খিচুরি কেউবা পায়েস রান্না করে প্রস্তুত থাকেন। মাদার বাঁশ বাড়িতে এলে মাদার দল ও গ্রামের সবাইকে খিচুরি-পায়েস বেরে করে দেন। এভাবে সারাদিন এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়ি নাচের মিছিল শেষ করে রাত গভীরে ঘরে ফেরে দামাইল দল। আবার কখনো বাড়ি থেকে দূরবর্তী গ্রামে হলে আর ঘরে ফেরা হয় না। সেখানেই কোনো মাদার ভক্তের বাড়িতে রাত কাটায় মাদারের দল। সারারাত চলে মারফতি কিস্সা আর গানের আসর। সকালে উঠে আবার পথচলা।

টানা সাত দিনে নাচ-গানের ভেতর দিয়ে আশপাশের গ্রাম প্রদক্ষিণ করেন তাঁরা। তবে যেখানেই রাত কাটাক না কেন মাদার বাঁশ কিন্তু মাটি স্পর্শ করতে পারবে না। বয়াতি ও দোহাররা মাদার বাঁশের জারি গাওয়ার সময় মাদার বাঁশটি উঁচুতে তুলে ধরে রাখেন। যখন তাঁরা বিশ্রামে যান, তখন বাঁশটিকে মাচার ওপর তুলে রাখেন। এভাবে যে গ্রামে রাত হয়, সেখানে তাঁরা বিশ্রাম করেন। আবার সকালে উঠে শুরু করেন পালা। অংশগ্রহণকারীরা এ সাত দিন পানীয় ছাড়া অন্য কিছু মুখে নেন না। সাত দিনের পাঁচালি শেষে পূর্ণিমার দিন শেষ হয় দামাইল নাচ।

শেষ দিন ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। দামাইল পীর বাড়িতে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হয়। বাড়ির লামছিতে মান্দারের কাঠে আগুন জ্বালানো হয়। সেই আগুনের ওপরে হেঁটে যান পীরসহ অংশগ্রহণকারীরা, যাকে কালীকাচ বলে থাকেন তাঁরা।

এ উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে শোলার চরে। পীরের বাড়ি থাকে শিষ্য আর ভক্তে লোকারণ্য। সাত দিনের ওঠানো চাল-ডালে রান্না হয় বেসুমার। সারারাত গানবাজনা আর ক্ষণে ক্ষণে খানাপিনায় কাটে মাদার পীরের মুরিদদের। এরই মধ্যে চলে নতুন শিষ্যদের শিষ্যত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান।

‘খাঁটি মুরিদ যারা,

আলেক চিনেন তারা’।

খাঁটি মুরিদ যারা, পীরের সান্নিধ্যে চলে যান সে রাতে। তাঁদের জন্য মহান রাত সেটা। একমাত্র তাঁরাই পীরের সান্নিধ্যে যেতে পারেন, গুরুর প্রতি ভক্তি যাঁদের অশেষ। এই রাতে পীরের সান্নিধ্যে এসে মহানুভবতা আর্জন করে সবাই ঘরে ফেরেন।

মুসলমান সম্প্রদায়ের লৌকিক পীরদের প্রধান একজন হচ্ছেন মাদার পীর। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে দুই রকম মাদার পীরের গান হয়। লৌকিক পীরের প্রতি ভক্তি প্রকাশের জন্য নাটোরের মাদারভক্তরা দুটি সরল বা সোজা বাঁশ নিয়ে একধরনের নাচ করেন। আর ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে ঢোল ও কাঁসি সহযোগে মুসলমানেরা দোহারের মাদার পীর শানাল শাহ-এর অনুসারীরা সাতটি সোজা বাঁশ নিয়ে গ্রামে গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নৃত্য ও গান করে বেড়ান। মাদার বাঁশের নাচ বা দামাইল নামে খ্যাত এ নাচ। মাদার পীর কোনো বাস্তব পীর নন। তাঁর অস্তিত্ব কাল্পনিক, মারফতি ধারার। 

দোহারের দামাইল গুরু ফালান ফকিরের মতে, হারুত-মারুত নামে দুই ফেরেশতা একবার পৃথিবীতে আসেন জীবন পর্যবেক্ষণ করতে। ধরণীতে এসে তাঁরা এক সুন্দরী নারীর প্রেমে পড়ে যান। তাঁরা প্রেমে এমনভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন যে, ভুলেই যান তাঁরা ফেরেশতা। তাঁদের প্রেমের ফলেই জন্ম হয় মাদার পীরের। মাদার পীরের জন্মের অব্যবহিত পরেই ফেরেশতারা খোদার ইচ্ছায় নিজেদের ভুলে যাওয়া সত্তার কথা মনে করতে পারেন। তাঁরা এ দুনিয়া ত্যাগ করে চলে যান আসমানে তাঁদের নিবাসে ও কর্মক্ষেত্রে। একদিন হজরত আলি (রা) শিকারে এসে কানকুপের জঙ্গলে কুড়িয়ে পান এক শিশুকে, যে নাকি ফেরেশতাদের ঔরসজাত মাদার পীর। কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে পুত্রের মতো লালন-পালন করে বড় করে তোলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মারফতি তরিকায় কঠোর সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন সেই বেড়ে ওঠা শিশু। একসময় হয়ে ওঠেন মাদার পীর বা শানাল শাহ। এ সময়ে আজমের মাধ্যমে দম ধরে অনেক অসাধ্য সাধনের শক্তি অর্জন করেন তিনি। অর্জিত এ শক্তি বা মাহাত্ম্য মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশ-দেশান্তরে। তাঁর একেকটি কেরামতি নিয়ে একেকটি পালা রচিত হয়েছে। তাঁকে নিয়ে রচিত এমন অনেক পালার কথা জানা যায়। যেমন—জিন্দাশাহ মাদার, আসকান মাদার, তালেমুল মাদার, খাতেমুল মাদার এই তালিকার অন্যতম আখ্যান। একেক পালায় একেক নামে আবির্ভাব ঘটে শাহ মাদার পীরের। যেমন—‘সমশের গোলাব’ পালায় রুহানি বা আধ্যাত্মিক শক্তি নিয়ে মাদার পীর পাল্লা দেন বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানির (র) সঙ্গে।

মাদার পীরের কেরামতি নিয়ে আরো একটি কাহিনি কথিত আছে মাদার পীরের শিষ্যদের মধ্যে। রাজা ছিলছত্র একবার শিশু ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেনকে (র) চুরি করে নিয়ে যায় তার দেশে। রাজা ছিলছত্রের দেশ হচ্ছে আরব মুলুক থেকে অনেক দূরে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে। হাসান-হোসেনকে মুক্ত করতে সে দেশে যান মোহাম্মদ হানিফা। কিন্তু তিনিও বন্দি হন রাজা ছিলছত্রের সৈন্যদের হাতে। এ সংবাদে ক্রুদ্ধ হয়ে ছুটে যান মাদার পীর। তিনি বন্দি করেন রাজা ছিলছত্রকে। কিন্তু হাসান-হোসেনকে কোথায় বন্দি করে রেখেছে, তা কিছুতেই জানান না রাজা ছিলছত্র। তখন মাদার পীর তাঁর ঝোলার মধ্যে ভরে ছিলছত্রের গোটা রাজ্যটাই তুলে আনেন আরবে। তারপর মা ফাতেমার (রা) সামনে এনে মেলে ধরেন ঝোলা এবং খুঁজে নিতে বলেন তাঁর পুত্রদের। তবে ধর্মে এ সমস্ত কাহিনির কোনো স্থান নেই।

মুন্সীগঞ্জ, বিক্রমপুর, ঢাকা, সাভার ও ফরিদপুর, মাদারীপুরে আছে মাদার পীরের শিষ্যদের প্রতিষ্ঠিত মাদার পীরের কল্পিত মাজার অথবা আগে মাদার পীরের শিষ্য ছিলেন—এমন কেউ মৃত্যুর পর তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে সেখানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মাদার পীরের মাজার। মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা ও এর আশপাশ থেকে শুরু করে বরিশাল পর্যন্ত মাদার পীরের ভক্ত আছে। মাদারের বাঁশ বা দামাইল প্রচলিত আছে এইসব অঞ্চলের সর্বত্র।