সবজি

সজনে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২২

 

সজনে অত্যন্ত পরিচিত সবজি। এর ডাঁটা বা ফল উপাদেয় খাবার। বিশেষ করে ডাল কিংবা তরকারিতে এটি অত্যন্ত মুখরোচক। শুধু সবজি হিসেবেই নয়, শাক হিসেবে সজনের পাতাও অত্যন্ত সুস্বাদু। সজনেতে টমেটো, কাঁচা কলা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি সবজির চেয়ে আঁশ, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ অনেক বেশি আছে। এর অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও ফেলে দেওয়ার নয়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সজনের চেয়ে সজনে পাতা বা শাকে বেশি পুষ্টিমান লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’ এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সজনে শাকে অনেক বেশি থাকে। সজনে গাছের পাতাকে বলা হয় ‘অলৌকিক পাতা’। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। গবেষকরা সজনে পাতাকে বলে থাকেন ‘নিউট্রিশন্স সুপার ফুড’ এবং সজনে গাছকে বলা হয় ‘মিরাক্কেল ট্রি’।

সজনের পাতা এবং ফল উভয়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণে পুষ্টি আছে। এতসব পুষ্টিগুণ একসঙ্গে আছে বলেই এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জীবন ধারণের পুষ্টি দুটোই পাওয়া যায়। প্রতি গ্রাম সজনে পাতায় একটি কমলার চেয়ে সাতগুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’, দুধের চেয়ে চারগুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দুইগুণ বেশি প্রোটিন, গাজরের চেয়ে চারগুণ বেশি ভিটামিন ‘এ’ এবং কলার চেয়ে তিনগুণ বেশি পটাশিয়াম বিদ্যমান। ফলে এটি অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতাসহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতিজনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। সজনেতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিনগুণ বেশি আয়রন বিদ্যমান, যা অ্যানেমিয়া দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সজনে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও অন্যতম অবদান রাখে। এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মতো কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাছাড়া এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।

সজনেতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। সজনেতে ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই সজনে শুধু পুষ্টির দিক থেকেই নয়, ভেষজগুণেও যথেষ্ট কার্যকর। সজনের মূল, ছাল, ফল (ডাঁটা), ফুল ও বীজ সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে ভেষজগুণ। এর মূলের রস পক্ষাঘাত,  অবিরাম জ্বর ও শ্বাসকষ্ট রোগে বেশ উপকারী। বীজের তেল কুষ্ঠ রোগে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফল বা ডাঁটা যকৃত ও প্লীহা সংক্রান্ত রোগ উপশম করে।