মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন প্রতিবন্ধী বলে আলাদা কোনো গোষ্ঠী নেই। আমরা সবাই মানুষ। সবারই কম বেশি কিছু না কিছু দুর্বলতা থাকে। কখনো শারীরিক, কখনো বা মানসিক। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির এসময় অসম্ভব বলে কিছু নেই। মানবজাতি যখন কৃষিযুগে বসবাস করতো এমনকি শিল্পযুগে প্রবেশ করেছিল তখন পর্যন্ত যে প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছিল সেগুলো ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের যে সহায়তা করতে পারতো এখন তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি প্রযুক্তি বিরাজমান।
মন্ত্রী গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বিসিসির অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজাবিলিটির সহযোগিতায় আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি মেলা ২০১৯’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা এমন একটা সময় বসবাস করছি যখন একেবারে বুদ্ধি চর্চা থেকে শুরু করে শারীরিক চর্চাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিবন্ধিতা জয় করা সম্ভব হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তাতে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা বলে কিছু থাকবে না। প্রযুক্তি সে জায়গাটা সহজলভ্য করবে। প্রযুক্তি মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়ার দরকার আমরা সে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছি।
মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিটি ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষের পক্ষে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নিজের দক্ষতা না থাকলে দয়ার পাত্র হতে হবে। আমরা যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করি তাদের নৈতিক দায়িত্ব ভিন্নভাবে সক্ষমদের পাশে থাকা। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীদের পাশে সচেতনভাবে থেকে যদি কাজের পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে তাদের জন্য অসম্ভব বলে কিছুই থাকবে না। তিনি বলেন, এ পৃথিবী সৃজনশীলতার পৃথিবী, তাই মেধাবী সৃজনশীল ব্যক্তিদের জন্য কোনো বাধা অন্তত এ ডিজিটাল বাংলাদেশে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিন্নভাবে সক্ষমদের অন্তর দিয়ে অনুভব করে ২০১৩ সালে প্রথম প্রতিবন্ধী অধিকার আইন পাস করেছেন। এর ফলে আমরা তাদের অধিকার প্রদান করি। এছাড়াও ইতোমধ্যে আমাদের ৩ হাজার প্রতিবন্ধীর মূল ধারায় নিয়ে আসার জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যার মধ্যে দেড় হাজার জনের প্রশিক্ষণ প্রদান প্রায় শেষের দিকে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ এবং বিশেষভাবে অ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পলক বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় নিয়ে আসা যায় সেটি চিন্তা করতে হবে। যেমন- যদি হুইল চেয়ারে রোবটিক্স ব্যবহার করা হয় তাহলে এ বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি আরো বেশি সেবা প্রদানে সক্ষম হবে। আমরা আশা করি দেশের ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি সমাজের উন্নয়নের বাইরে থাকবে না। শেখ হাসিনা সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহর গ্রামে সকলের জন্য সমানভাবে সুবিধা প্রদানের জন্য কাজ করছে।
দিনব্যাপী এ মেলায় বাক্য, এফবিসিসিআই, মাই আউটসোর্সিং, কোয়াব, লিডস করপোরেশন পশমি সোয়েটার লিমিটেডসহ মোট ২১টি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত চাকরি মেলায় ২০১৫ সালে ৩২ জন, ২০১৬ সালে ৬০ জন, ২০১৭ সালে ১১৫ জন এবং ২০১৮ সালে ১৭৬ জন আইসিটিতে দক্ষ ব্যক্তির কর্মসংস্থান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেবের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, পিপুটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী বাক্যের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, সিএসডিআইয়ের প্রধান নির্বাহী রহুল হক, মাই আউটসোর্সিং লিঃ এর সিইও তানজিরুল বাশার প্রমুখ। পরে মন্ত্রী মেলায় স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
