ইত্তেফাক রিপোর্ট
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক ধারার বাইরে চিন্তা করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়তে হলে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতার প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যত্ প্রস্তুতি বিষয়ক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান আরো বলেন, বাণিজ্য সহজ করতে সরকার লজিস্টিকস নীতিমালা প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে গুরুত্ব পাবে অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানা বিষয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৫ সালে বিশ্বে লজিস্টিকস অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালে যা সাড়ে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এ খাতের ৪৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে চীন, জাপানসহ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক লজিস্টিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের শিল্প ও লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ আলোচকবৃন্দ বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করেন এবং দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার স্বরূপ কেমন হতে পারে, যা অর্থনীতির বিকাশকে আরো ত্বরান্বিত করবে সে সম্পর্কে আলোকপাত করেন। দিনব্যাপী আয়োজিত এই কনফারেন্স দুটি টেকনিক্যাল সেশনে সম্পন্ন হয়। প্রথম টেকনিক্যাল সেশনে শিপার্স একাডেমি শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোহান মাসাকোরালা, দুবাই ফ্রেইট সিস্টেমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড ফিলিপস, সিঙ্গাপুরের স্টেন ইন্টারন্যাশনালসের বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিষয়ক পরিচালক ভিনসেন্ট লি তাদের নিজ নিজ দেশের লজিস্টিক ব্যবস্থা তুলে ধরেন। এছাড়া দ্বিতীয় সেশনে এক্সপেডিটরস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সেহজাদ মুনিম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মো. ফিরোজ শাহ আলম বক্তব্য দেন। তারা বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সুপারিশ করেন।
