পুরনো ঢাকার শত শত ভবন অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই শাঁখারীপট্টি, তাঁতিবাজার, বাংলাবাজার, ইসলামপুর, চকবাজার, বেচারাম দেউরী, লক্ষ্মীবাজার, সদরঘাট, নবাবপুর, ধোলাইখাল, নারিন্দা, ফরাশগঞ্জ, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, আরমানিটোলা, বংশাল, বঙ্গবাজারসহ জরাজীর্ণ মার্কেটসমূহ, লালবাগ, কোতয়ালী...। এমনিতে পুরনো ঢাকার অনেক বাড়িঘরের মেয়াদ শেষ। সরু রাস্তাঘাট। অগ্নি নির্বাপণের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর উত্সুক জনতার ভিড়ে ধ্বংসসূ্তপে উদ্ধারকারীদের যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। তাই সময় থাকতে পুরনো ঢাকার আধুনিকায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও রাজউককে এগিয়ে আসতে হবে। অলিগলিসহ পুরনো ঢাকায় নির্মিত অধিকাংশ বহুতল ভবন ও মার্কেট কোনো নিয়ম না মেনেই তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরনো ঢাকাতে অনেকেই রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বাড়ি নির্মাণ করেছে। কেউ কেউ আবার ছয়তলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করলেও জরুরিভাবে বাড়ি ও ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার জন্য বিকল্প সিঁড়ি রাখেনি। পুরনো ঢাকা এমনিতে ঘিঞ্জি এলাকা। সেইসব বাড়ির ব্যাপারে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি ও হতাহতের আশঙ্কা আছে। জনগণকে সচেতন করতে চিহ্নিত ভবনগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ বার্তার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সরু রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
ফরিদাবাদ-গেণ্ডারিয়া, ঢাকা ১২০৪
