ভারতের অযোধ্যায় দ্রুত রামমন্দির নির্মাণের দাবিতে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। হাজার হাজার নিরাপত্তারক্ষীর বলয়ের মধ্যে বিভিন্ন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গতকাল রবিবার এই সমাবেশের আয়োজন করে। বাবরি মসজিদ চত্বরে দ্রুত রামমন্দির নির্মাণের দাবিতে করা সমাবেশে লাখো হিন্দু অংশ নেয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, কংগ্রেসের কারণে রামমন্দির নির্মাণ আটকে আছে। খবর বিবিসি’র
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ‘ধর্ম সংসদ’ নামের সমাবেশ থেকে তাদের নেতা ও সাধুসন্তরা দাবি তুলেছেন, আদালতের অপেক্ষায় না থেকে সরকারকে অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশ জারি করে হলেও মন্দির নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অযোধ্যাতেই গতকাল সমান্তরাল আরো একটি সমাবেশ করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপির শরিক ও মহারাষ্ট্রের হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনা। ওই সভা থেকে শিবসেনার নেতা উদ্ধব ঠাকরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মন্দির বানানো না হলে বিজেপি কিছুতেই ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। শিবসেনার সভায় যোগ দিতে অন্তত ১৫টি ট্রেন ভর্তি করে মহারাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার শিবসৈনিক অযোধ্যায় আসেন।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাতেও প্রায় এক লাখ মানুষের জমায়েত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের সমর্থকরাও দলে দলে সেখানে যোগ দেন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ও বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির সদস্য জাফরইয়াব জিলানি বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অযোধ্যায় যেভাবে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তাতে শহরের মুসলিমরা ভয়ে সিঁটিয়ে আছেন। অযোধ্যায় নিরাপদ বোধ না করলে মুসলিমদের লক্ষৌতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের পাঁচটি কোম্পানি অযোধ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্টেবুলারির ৪২টি কোম্পানি ও হাজারখানেক পুলিশকর্মীও শহরে টহল দেয়। ড্রোন দিয়েও সর্বক্ষণ আকাশ থেকে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ নজর রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী অভিযোগ করেছেন, অযোধ্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার কীভাবে হয় সেটা নিয়ে যখন ভাবনা চিন্তা করছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা, ঠিক তখনই কংগ্রেসের এক রাজ্যসভার সদস্য যিনি পেশায় আইনজীবী তিনি অকারণে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের ইমপিচমেন্টের দাবি জানাচ্ছেন। তাতেই আটকে যাচ্ছে অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির রায় দান। বারবার বাধা সৃষ্টি করছে কংগ্রেস।
